মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানির জন্য আগাগী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেত্বত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ মামলার শুনানির জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার ছয় নম্বরে ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে মামলার প্রস্তুতির জন্য সময় আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে মীর কাসেম আলীর পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘মামলার প্রস্তুতির জন্য সময় আবেদন করেছি, আদালত মঞ্জুর করে ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।’
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেত্বত্বে আপিল বিভাগ এ মামলা শুনানির জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আসা এটি ছিল সপ্তম মামলা।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় মীর কাসেম আলীর পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আপিল দায়ের করেন।
মীর কাসেমের পক্ষে ১৮১টি গ্রাউন্ডে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস চেয়ে এ আপিল করা হয়েছে। দেড়শ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ৫ অংশে (ভলিয়ম) এক হাজার ৭৫০ পৃষ্ঠায় বিভিন্ন নথি পেশ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনীত মোট ১৪টি অভিযোগের মধ্যে মোট ১০টি অভিযোগে মীর কাসেম আলী দোষী প্রমাণিত হন।
সেগুলো হলো- ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ। তন্মধ্যে দুটিতে (১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে ) মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চারটি অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
১১ নম্বর অভিযোগে রয়েছে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। এ অভিযোগে বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
১২ নম্বরে রয়েছে রঞ্জিত দাস ও টুন্টু সেনকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। এ অভিযোগে বিচারকদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়। ১১ ও ১২ নং অভিযোগ ছাড়া বাকি ১২টি অভিযোগই অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ মীর কাসেমের বিরুদ্ধে।
প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ২ নম্বর অভিযোগে তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে তাঁকে সাত বছর করে মোট ৪২ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ নম্বর অভিযোগ ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আটটি অভিযোগে তাঁকে সর্বমোট ৭২ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস (অব্যাহতি) দেওয়া হয়।
এসএইচ





