তিতাস গ্যাসে সিস্টেম লস দেখিয়ে ৩৭২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পুনরায় অনুসন্ধানী টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কশিমন (দুদক)।


জানা যায়, সোমবার কমিশন দুদকের পরিচালক মো. নূর আহাম্মদের তত্ত্বাবধানে উপ-পরিচালক আবদুছ ছাত্তার সরকারকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফলে তিনি শিগগিরই তিতাস গ্যাসে সিস্টেম লস দেখিয়ে ৩৭২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামবেন বলে জানা যায়।

দুদক সূত্র জানায়, এর আগে ২০১০ সালে দুদকের উপ-পরিচালক (বর্তমানে বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়) নূর হোসেন খান ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করেন। কিন্তু তিনি গত ৫ বছরেও রহস্যজনত কারণে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে; গত ১৯৯২-৯৩ থেকে ১৯৯৬-৯৭ সাল পর্যন্ত তিতাস গ্যাসে সিস্টেম লস দেখিয়ে ৩৭২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংসদীয় কমিটি ২০১০ সালের ২৪ মে সিস্টেম লসের নামে এ দুর্নীতির সন্ধান পায়।

তিতাস গ্যাস কোম্পানি সংসদীয় কমিটির কাছে এ দুর্নীতি সিস্টেম লস হিসেবে দেখিয়েছিল। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

জানা যায়,সিস্টেম লসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত হার শতকরা দুই ভাগ। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ক্ষেত্রে এ অপচয়ের হার বহুগুণ বেশি।

তারা ১৯৯২-৯৩ থেকে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর পর্যন্ত ৩৭২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সিস্টেম লস দেখিয়েছে। তিতাস এ সিস্টেম লসের ব্যাখ্যা হিসেবে কারিগরি লস, অকারিগরি লস ও আবাসিক ট্যারিফজনিত লসকে বুঝিয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়।

জানা যায়, গ্রাহক অনুমোদন ছাড়া পাইপসহ মালামাল সরবরাহ করে ৮ কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার টাকা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিল মওকুফ করে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি করেছে তিতাস।

আবার ১৯৯৫-৯৬ ও ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের হিসেবে গ্যাস অপচয় বাবদ ক্ষতি দেখিয়েছে ২৮ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। একই সময় অস্তিত্ববিহীন গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল আদায় না হওয়ার ক্ষতি দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
একে