মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর করা আপিলের রায় আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

তবে এই রায় ঘোষণার আগে সালাউদ্দিন কাদেরের পরিবারের সদস্যরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছে তা নাকচ করে দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেছেন, রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই কাদেরের পরিবারের সদস্যরা নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে।

রায় নিয়ে আদালতের উপর কোনো চাপ নেই। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আপিলের রায়েও চৌধুরীর ফাঁসি বহাল থাকবে।

তবে আসামিপক্ষের আশা, মি.চৌধুরী খালাস পাবেন। চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, অপরাধ সংঘটনের সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দেশে ছিলেন না। আদালতে এ সংক্রান্ত নথিপত্র আমরা উপস্থাপন করেছি।

আদালত এ বিষয়টি বিবেচনা করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মি. চৌধুরীকে বেকসুর খালাস দেবেন বলে আমরা আশা করি।

এদিকে আপিলে সালাউদ্দিন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা সংগঠন গণজাগরণ মঞ্চ।

তবে গণজাগরণ মঞ্চসহ ‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা’ কয়েকটি সংগঠনের এই দাবি আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন চৌধুরীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এসব সংগঠন যুদ্ধাপরাধের বিচার কাজকে প্রভাবিত করছে। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খন্দকার মাহবুব।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে গত ৭ জুলাই সালাউদ্দিন কাদেরের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়।

এ বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আপিল বিভাগে সালাউদ্দিন কাদেরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এসএইচ