জালিয়াতি ও দুর্নীতির মামলায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের(ডিএসসিসি) সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন এবং বাগেরহাট চিলতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুলল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
আজ সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক মো. আবদুস সোবহান দুপুরে প্রায় এক ঘন্টা সরকারের ওই ২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জানা যায়,গত বছর ২৪ নভেম্বর দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ পরিচালক মাহবুব আলম বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধেশাহবাগ থানায় দন্ডবিধি ৪২০/ ৪৬৬/ ৪৬৮/৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) দারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর -৩৭। দুদকের দায়ের করা মামলার আসামি ওই ২ কর্মকর্তা।
দুদকের মামলার আরজিতে বলা হয়, রাজধানীর নীলক্ষেতে ফাঁকা জায়গায় ছাদের উপর ছাদ দেখিয়ে চারতলা মার্কেট উল্লেখ করে ১১২টি দোকান বরাদ্দের নামে এক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি সংঘবব্ধ চক্র। আর মামলার এফআইআর ভুক্ত ৯ আসামির বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, ডিএসসিসির সাবেক প্রশাসক খলিলুর রহমান, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুলতান উল ইসলাম চৌধুরী, কানুনগো মো. আলী, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুলল আলম, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন, সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান এবং নীলক্ষেতের এ অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেটের দোকার-মালিক সমিতির সভাপতি একেএম শামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়,অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নিলক্ষেত এলাকায় অস্থায়ীভাবে ১৫ টাকা বর্গফুট ভাড়া নির্ধারণ করে ১১২টি দোকান ব্যবসায়িদের বরাদ্দ দেয়। আর বরাদ্দের শর্তে বলা ছিল ব্যবসায়িরা নিজ খরচে ছাদের উপর ছাদ অর্থাৎ ৪ তলা পাকা মার্কেট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অস্থায়ী বরাদ্দে কখনো স্থায়ী পাকা দোকান বানানোর বিধান নেই। তবে এ বেআইনী বরাদ্দের মাধ্যমে এ চক্রটি প্রয়া ১০০ কোটি টাকা
জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ আল হারুনকে আহবায়ক এবং প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি এ জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করেন। এ কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, বাজার সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উপ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী সরদার, সহকারি আইন কর্মকর্তা এসএমকরীম খান।
এ কমিটির কর্মকর্তারা ২০১৩ সালে ৩ এপ্রিল প্রশাসকের দফতরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,সচিব এবং দদেকের চেয়ারম্যানের দফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৮ জালিয়াতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফৌজদারি এবং বিভাগীয় মামলার সুপারিশ রয়েছে।
ডিসিসিসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে নীলক্ষেত লেপতোষকের মাকের্টের ছাদ এবং সংলগ্ন প্রায় সোয়া এক বিঘা জমিতে ৪ তলা পর্যন্ত ছাদের উপর ছাদ নির্মাণ করে নেয়ার জন্য ব্যবসায়িদের অন্থায়ি ১১২টি দোকন বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এ ১১২ টি দোকানের আবেদনকারীদের নামের তালিকায় মাত্র ১০/১৫ জনই স্বাক্ষর করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়,২০১২ সালে ১ এপ্রিল সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সুপারিশ সম্বলিত একটি আবেদন পত্রের উপর ভিত্তি করে ১৪ এপ্রিল কানুনগো মো.আলী ১১২টি দোকান বরাদ্দের পক্ষে প্রশাসকের নির্দেশ রয়েছে বলে নথি সম্পত্তি বিভাগে উপস্থাপন করেন। ওই নথিতে সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান, সার্ভেয়ার মো. মুরদ হোসেন ১৯ এপ্রিল দোকান বরাদ্দের প্রস্তাবের পক্ষে মতামত দেন।
২৩ এপ্রিল সম্পত্তি কর্মকর্তা দিদারুল আলম এবং ৩০ এপ্রিল প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বরাদ্দের পক্ষে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন মন্তব্য করেন। পরে তৎকালীন প্রশাসক মা. খলিলুর রহমান ২০১২ সালে ১০ মে লিখিতভাবে ১১২টি দোকান বরাদ্দের নির্দেশ দেন।
একে ,