সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বৃহত্তর পরিসরে অর্থ বরাদ্দের চেয়েও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বা কমিউনিটিভিত্তিক অর্থায়ন জরুরী বলে মত দিয়েছেন ইন্টারিম সেক্রেটারিয়েট অব দ্য গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স ফান্ড, জেনেভা-এর নির্বাহী পরিচালক ড. খালিদ কোসার।
আজ (বুধবার) সকালে ঢাকায় বিআইআইএস (বিস) অডিটোরিয়ামে 'এমিনেন্ট পারসন্স লেকচার সিরিজ'-এর আওতায় "কাউন্টারিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম (সিভিই): দ্য গ্লোবাল এক্সপেরিয়েন্স" শীর্ষক আলোচনায় খালিদ এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখন কোন বিশেষ দেশ বা জাতির সমস্যা নয়, এটি একটি গ্লোবাল সমস্যা। তাই এই সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
চরম সন্ত্রাসবাদসহ বিশ্বব্যাপী চলমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পেছনে যেসব কারণ বিদ্যমান তাকে চিহ্নিত করে সেই কারণ প্রথমে দূর করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বলেন, সন্ত্রাসীরা মানুষকে তাদের দিকে আকৃষ্ট করতে কখনো দারিদ্রতাকে কাজে লাগায়, কখনো অশিক্ষাকে এবং কখনওবা নারীদের ব্যবহার করে।
তাই দারিদ্র দূরীকরণ, নারী শিক্ষার বিস্তার এবং শিশু অধিকার রক্ষাসহ মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষার বিষয়টিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায়।
এক্ষেত্রে তিনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বা কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে অর্থায়ন ও প্রকল্প প্রণয়নের ওপর জোর দেন। তবে, যেখানেই এই কার্যক্রম চালু হবে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট সরকারী সংস্থাসমূহকেও অবশ্যই এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।
এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে খালিদ বলেন, যেখানেই কোন ধরনের সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হোক না কেন, ওখানকার কমিউনিটিই তা সবার আগে এবং বিস্তারিতভাবে জানতে পারে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী নতুন নতুন ওয়েব সাইট চালু করতে হবে এবং সোসাল মিডিয়াকে এ কাজে বেশি ব্যবহার করতে হবে।
খালিদ বলেন, সন্ত্রাসীরা বর্তমানে সোসাল মিডিয়াকে অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করছে। তাই আমাদেরকে দক্ষতার সাথে খুঁজে বের করতে হবে কোন কোন মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার লাভ করছে।
এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মো: শহীদুল হক বলেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বন করেছে। আর সেই নীতিবোধ থেকেই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যে কোন উদ্যোগের সাথে বাংলাদেশ সব সময়ই সম্পৃক্ত থেকেছে এবং থাকবে।
পরে এক উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির হাতে ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খালিদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি এই ফোরামে তোলার জন্য ধন্যবাদ। তবে, তিনি শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করেন, তাই এই বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।
তবে, উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বেশ কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে একটি সহনশীল এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদ যেভাবে বিস্তার লাভ করছে বাংলাদেশের সাথে তার কোন মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তবে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে সহিংস পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে তার মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে পরস্পরের প্রতি আরও সহনশীল হয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয় উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে।
এ সময় বক্তারা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দুটো বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন, তা হলো: সহিংসতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব।
তারা বলেন, শুধু দরিদ্রের কারণেই সন্ত্রাসীদের সাথে হাত মেলাচ্ছে-বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ কথা আজ প্রযোজ্য নয়। বর্তমানে সমাজের এলিট শ্রেনীর মধ্য থেকেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছে। তাই বিষয়টিকে আরও খোলাসাভাবে পর্যালোচনা করে করণীয় ঠিক করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন বিসের বোর্ড অব গভর্ণরসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।
কেবি





