আদালতের রায় অনুসারে স্থাপনা অপসারণ না করে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করায় চার সচিবসহ ১২ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলে জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল এ রুল জারি করেন।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদী পরিবেশ সচিব মো. শফিকুর রহমান, ভূমি সচিব মোখলেসুর রহমান, গৃহায়ণ সচিব মো. গোলাম রব্বানী, বেসামরিক বিমান সচিব খুরশীদ আলম চৌধুরী এবং বাকী ৮ কর্মকর্তা বাংলদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মোখসেদুল হাসান খান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.রাইসুল আলম মণ্ডল, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, জেলা পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সরকার আব্দুল আউয়াল, কক্সবাজার সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম) মো. জাফর আলমকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর একটি দৈনিকে ‘কক্সবাজারের বন বিভাগের জমিতে আবাসন প্রকল্প’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যোগ করে আদালত অবমাননার একটি আবেদন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জমি বন বিভাগের। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে স্থাপনা নির্মাণে রয়েছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা। তারপরও কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় গড়ে উঠছে জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের আবাসন প্রকল্প। এরই মধ্যে শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাটা পড়ছে ৫১ একর বন।
হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই আবেদেনর সব বিবাদীদেরকে লিগ্যাল নোটিস দেয়। এর আগেও আরেকবার লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়। কিন্তু জবাব না দেয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
আদালতে আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইকবাল কবির লিটন।
আইনজীবী ইকবাল কবির লিটন সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার ওই ৫১ একর জমি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। ২০১১ সালের ৮ জুন হাই কোর্ট এক রায়ে ওই জায়গা বিদ্যমান সকল স্থাপনা এক মাসের মধ্যে অবসারণে রায় দেয়। এই বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা তা করে নাই। উল্টো সেখানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসন প্রকল্প নির্মাণ শুরু করে।
[b]ঢাকা, জিই, ৪ মার্চ  (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর [/b]