আলোচিত ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসেরের (প্রিন্স মুসা) দেওয়া সম্পদের তথ্যে ‘গড়মিল’ আছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তিনি কথা জানান।
চুপ্পু বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা মুসার সুইস ব্যাংকের ওই এ্যাকাউন্টের তথ্য পাব। জিজ্ঞাসাবাদে মুসা জানিয়েছেন, তার পার্টনার কিছুদিনের মধ্যেই ওই এ্যাকাউন্টের কাগজপত্র দেশে পাঠিয়ে দেবে। এরপর মুসা তা কমিশনে সরবরাহ করবে।’
গুলশান ও বনানীতে দুটি বাড়ি ছাড়া সাভার ও গাজীপুরে এক হাজার ২০০ বিঘা জমির বিষয়ে মুসা জানান, যে আইনজীবী এসব দেখাশোনা করতেন তিনি মারা গেছেন। অল্পদিনের মধ্যেই ওই সব জমির কাগজপত্র কমিশনে দাখিল করবেন, জানান দুদক কমিশনার।
দুদকের অনুসন্ধানে মুসা অসহযোগিতা করেছেন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘কমিশনের অনুসন্ধানে মুসা অসহযোগিতা করেছেন। এ কারণে অনুসন্ধান শেষ করতে সময় লাগছে। তবে অনুসন্ধানে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এখন আর তেমন সময় লাগবে না। মুসার জমা দেওয়া সম্পদের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে।’
তবে মুসার বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না তা অনুসন্ধান শেষে বলা যাবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদকের কাছে সকল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান প্রিন্স মুসা।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান চালিয়ে সুইস ব্যাংকে মুসার ওই এ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করতে পারেনি দুদক। ১২ বিলিয়ন ডলারের ধূম্রজাল কাটাতে ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর মুসাকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ করে কমিশন। সে অনুসারে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি তার জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার কথা ছিল। তবে সেদিন উপস্থিত না হয়ে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন তিনি। মুসার আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ১০ কার্যদিবস সময় বৃদ্ধি করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৮ জানুয়ারি এ দিন নির্ধারণ করে কমিশন।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। সম্পদ বিবরণীতে তিনি সুইস ব্যাংকে তার ১২ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা- প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে) ফ্রিজ অবস্থায় থাকার কথা উল্লেখ করেন। সুইচ ব্যাংকে ৯০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের (বাংলাদেশি প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) অলংকার জমার তথ্য দেন তিনি। এ ছাড়া দেশে তার সম্পদের মধ্যে গুলশান ও বনানীতে দুটি বাড়ি, সাভার ও গাজীপুরে এক হাজার ২০০ বিঘা জমির কথাও সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে মুসার বিরুদ্ধে স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেলে ২০১৫ সালের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে কমিশন।
সূত্র আরও জানায়, প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই সময় বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস’র প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এ অনুসন্ধান শুরু করা হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে দুদকের ওই অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি।
তিন বছর পর ২০১৪ সালের শেষের দিকে ‘বিজনেস এশিয়া’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আবারও নতুন করে মুসার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক।
২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর দুদকের ওই কর্মকর্তাকে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠায় দুদক। ১৮ ডিসেম্বর হীরার জুতা থেকে শুরু করে আপাদমস্তক মূল্যবান অলংকারে সজ্জিত হয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন প্রিন্স মুসা। সঙ্গে ছিল নারী-পুরুষের ৮০ জনের এক দেহরক্ষী বহর।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুইস ব্যাংকে জব্দ করা অর্থ ফেরত পেলে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিভিন্ন খাতে তা বিনিয়োগ করবেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান মুসা।
দুদকে দাখিল করা সম্পদের হিসাব মিথ্যা প্রমাণিত হলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
এমএম





