অবশেষে বহুল আলোচিত এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের চেষ্টা ও তদবির সফল হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

একই সঙ্গে প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ নথিভুক্তি মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছে বলে জানা যায়।

সোমবার কমিশনের এক সভায় দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীর দাখিল করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সূত্র মতে, এর আগে দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের অনুসন্ধান করেন ।

দুদকের ওই কর্মকর্তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পান। ফলে ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন।

এমনকি প্রকাশিত ওয়াহিদুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিল করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্ত ব্যাক্তি ওয়াহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টিও উল্লেখ ছিল।

কিন্তু কমিশন দুদকের প্রথম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীর দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে অভিযোটি পুনরায় অনুসন্ধানের জন্য অপর উপ পরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ফলে রাতারাতি পালটে যায় দুদকের আগের কর্মকর্তার দাখিল করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সুপারিশ মালা।
দুদক কর্মকর্তা জুলফিকার আলী অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশ করেন।

তার প্রতিবেদনে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ থেকে প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের আলোকে প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ যাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
গত ২৩ অক্টোবর প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে দুদক ডেকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই তিনি ছাত্রলীগের ক্যাডারদের প্রহরায় দুদক থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগেও দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খোন্দকার শওকত হোসেনকেও মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তবে তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৪ সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ ছিল।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দুদকের ওই প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি বলে জানা যায়। কারণ মন্ত্রণালয় নিজস্ব উদ্যোগে এ বিষয়টি যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।

একে