রাজধানীর ধানমন্ডিতে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের (আওয়ামী লীগ) সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ শামারুফ মেহজাবিনের (২৬) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সাবেক এমপির ছেলে কনার স্বামী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন সুলতান পলাতক রয়েছেন।
স্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও মেহজাবিনের স্বজনদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।
মেহজাবিনের মামা যমুনা ফিউচার পার্কের ইঞ্জিনিয়ার কাজী ফিরোজুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বেয়াই (মেয়ের স্বশুর) ফোনে জানায়- কনা তার স্বামীর সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আত্মহত্যা করেছে। এটি কোনোভাবেই বিস্বাশযোগ্য নয়। কারণ যে বাথরুমের গ্রিলের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার কথা বলা হচ্ছে, কমোডে বসেই সেই গ্রিল ধরা যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত রাতে (বুধবার) মেহজাবিনকে হত্যা করা হয়েছে।
মেহজাবিনের খুব কাছের বান্ধবী ডালিয়া টাইমনিউজবিডিকে জানান, কনার গলার দুই পাশে দুটি দাগ রয়েছে। তার পিঠেও দাগ রয়েছে। এছাড়া তার দুই হাতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার মতো দাগ রয়েছে।
তিনি বলেন, 'স্বামীর সঙ্গে ওর মনমালিন্যের কোন কথা শুনিনি। কনা অনেক ভদ্র ও পরেজগার ছিল, সে আত্মহত্যা করতে পারে না।
মেহজাবিনের চাচাতো ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন বলেন, 'আমি ডিজিএফআইএ'র একজন সাবেক কর্মকর্তা। ঘটনাটি দেখে মনে হচ্ছে মে বি হত্যা'।
মেহজাবিন আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয় জানিয়ে তার খালা তুরানী বলেন, তাকে খুন করা হয়েছে।
মেহজাবিনের স্বজনদের দাবি স্বশুর সরকার দলীয় একজন রাজনৈতিক লোক হওয়ায় বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে রহস্যজনক কারণে পুলিশ সাংবাদিকদের আসল তথ্য না দিয়ে বিভিন্ন ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বরে কেয়ারী তাজ ভবনের চতুর্থ তলার বি ব্লকের বাসা থেকে শামারুফ মেহজাবিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার লাশ ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদুল কবির লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’
মেহজাবিন রাজধানীর হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি শেষ করার পর বিএসএমএমইউতে এফসিপিএস ডিগ্রি নিতে ভর্তি হয়েছিলেন।
যশোরের আইনজীবী টিপু সুলতানের বড় ছেলে হুমায়ুন সুলতানের সঙ্গে দুই বছর আগে মেহজাবিনের বিয়ে হয়। তারা ধানমণ্ডিতে টিপু সুলতানের বাড়িতে থাকতেন।
জেইউ, জেএ





