ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে ৬ সচিবের পক্ষে সুপারিশকারীদের ধরার সিন্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একটি সূত্র জানান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতে যাদের সুপারিশের কপি নথিতে সংযুক্ত আছে তাদের সই-স্বাক্ষর সঠিক না জাল তা যাচাই করার জন্যই সংশ্লিষ্ট বক্তব্য নিচ্ছে।
৬ সচিবের ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে দুদক ইতোমধ্যে একটি তালিকা তৈরি করেছে। এরমধ্যে রয়েছেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, সেক্টর কমান্ডারর্স ফোরামের নেতা সাবেক সেনা প্রধান কেএম সফিউল্লাহ এমপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ ডজন খানিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে।
সূত্র মতে, দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যক্তিদের সুপারিশকে সামনে রেখে ওই ৬ সচিবসহ আরো বেশ কিছু ব্যক্তি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেয়েছেন। আর এ সনদ পেতে যাদের সুপারিশের কপি নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এবার দুদকের তদন্তে বেরিয়ে আসবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা কিভাবে সনদ পেয়ে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং দাপটের সঙ্গে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে যাচ্ছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব একেএম আমির হোসেন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার আজ বুধবার দুদকে হাজির হয়েছেন। কিন্তু বাকী ৪ সচিব আজ দুদকে আসেননি। দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলী তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সহদ গ্রহণকারী সরকারের প্রভাবশালী ৬ সচিবের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার, স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব এককেএম আমির হোসেন।
জানা যায়, একমাত্র স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া ছাড়া বাকী ৫ সচিবকেই ইতোমধ্যে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
গত ১৭ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান (সাবেক সচিব) মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া দুদকের ১৭টি প্রশ্নের লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন।
সূত্র মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের মাধ্যমে তারা চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। ইতোমধ্যেই তার ডোসিয়ার, পিডিএস (পার্সোনাল ডাটাশিট), মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাখিলকৃত সনদ, চাকরিতে যোগদানকালে পূরণকৃত ফর্মের সত্যায়িত অনুলিপি পর্যালোচনা করেছে দুদক।
এ পর্যন্ত ৬ সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ ও কুষ্টিয়া জেলার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় আড়াই ডজন মুক্তিযোদ্ধাকে কয়েক দফায় জিজ্ঞসাবাবাদ করেছে দুদক।
ঢাকা, একে, ২৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম), কেএইচ





