জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া রায়ের কপি পেতে আদালতে ৩ হাজার ফলিও (যে কাগজে রায়ের নকল দেওয়া হয়) জমা দিয়েছেন তার আইনজীবীরা। 

আজ (সোমবার) সকালে ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে এ ফলিও জমা দেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানা উল্লাহ মিয়া জানিয়েছেন, আদালতে ৩ হাজার ফলিও জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, কোর্ট ফি জমা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিনই রায়ের কপি পেতে আদালতে আবেদন করা হয়। এ নিয়ে রোববার শুনানিও হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার আদালতে ৩ হাজার ফলিও জমা দেওয়া হলো। আশা করছি এতে রায়ের কপি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকারবকশিবাজারের আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এরপর রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনটিকে ‘সাবজেল’ ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছে তাকে। পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের অফিস ভবনের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বামেই সিনিয়র জেল সুপারের যে অফিস কক্ষ ছিল, সেখানেই তাকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা।

বর্তমানে ওই কারাগারে আর কোনও বন্দি নেই। ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টার থেকে শুরু করে সারাদিন রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোড থেকে সাড়ে ছয় হাজার বন্দিকে কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার বন্দিশূন্য ছিল।

দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান।

এমবি