একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এরইমধ্যে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্যে হাইকোর্টের কয়েক জন বিচারপতির নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। আলোচিত বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও প্রথম ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম।
কিন্তু চেয়ারম্যান হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমকে নিয়োগ দেয়ার জন্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সুপারিশ করা হয়েছে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগেও প্রথম ট্রাইব্যুনালের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম তার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলে তার স্থলে  দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে নিয়োগ দেয়া হয় প্রথম ট্রাইব্যুনালে।
বিচারপতি ফজলে কবীর প্রথম ট্রাইব্যুনালে যোগ দিলে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এ নিয়োগ হতে পারে।
সূত্র জানায়, এবারও প্রথম ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিচার করা হচ্ছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর বিচারক হিসাবে বয়সসীমা পার হওয়ার কারণে অবসর গ্রহণ করেন প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর। এরপরও তাকে ফের এই পদে নিয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু তিনি রাজি হননি বলে সূত্র জানায়।
জানতে চাওয়া হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হবে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী জানান, এ ব্যপারে আমি জানি না।
কিন্তু অপর একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইম নিউজ বিডিকে জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথম ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন।
অপরদিকে তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত প্রথম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম। জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার বিচার শেষে গত বছরের ২০ নভেম্বর রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় এখনো রায় ঘোষণা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজাহারুল ইসলাম, জামায়াতের নেতা মাওলানা আব্দুস সোবাহান, বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন ও আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেনের মামলাও প্রথম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন এ মামলাগুলোর শুনানি হচ্ছে না চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়ায়।
এদিকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সাথে সাথেই জামায়াত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণা করার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন আইনজীবীরা।
এক্ষেত্রে আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর সাঈদীর মামলার বিচার শেষে রায়ের জন্যে অপেক্ষমান রেখেছিলেন বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন একই ট্রাইব্যুনাল।
তারার বলেন, স্কাইপি সংলাপ প্রকাশের জেরে বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করলে ১৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় আবার দুই পক্ষকে যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
এরপর আরও এক মাস যুক্তি উপস্থাপনের পর ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি ফের মামলাটি রায়ের জন্যে অপেক্ষমান রাখা হয়। নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায়ও পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল থেকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আইনে বলে, ট্রাইব্যুনালের কাঠামোগত পরিবর্তন হলেও কোনো মামলা পুরাতন কাঠামোয় সর্বশেষ যে অবস্থায় ছিল, নতুন কাঠামোতে সর্বশেষ অবস্থা থেকে চলতে কোনো বাধা থাকবে না।
একদিকে চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্যে বিচারপতির নাম আলোচনায় উঠে আসলেও এখনও নতুন করে কোন বিচারপতি এই পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে আসছেন কিনা এখনো তা জানা যায়নি।
সূত্র বলে, চেয়ারম্যান নিয়োগ হলেও এখনো কোন সদস্য বিচারপতি নিয়োগের কোন তৎপরতা নেই। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নিয়োগ হলেও নিজামীর মামলার রায় ঘোষণা কবে নাগাদ হচ্ছে তা বলা যাচ্ছে না।
[b]ঢাকা, জিই, ৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]