৭১’র মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আগামী ১৪ আগস্ট আদেশ দেওয়া হবে।
রোববার অভিযোগ গঠনের উপর শুনানি শেষে চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
আদালতে জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা। অপরদিকে বিরোধীতা করে শুনানি করেন তার পক্ষে রাষ্ট্রের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আবুল হাসান।
গত ৮ জুলাই জব্বারের পক্ষে একজন রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, জব্বারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার স্বপক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। একাত্তর সালে হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব যুক্তি তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আর্জি জানান প্রসিকিউটর।
গত ১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত ৫টি অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
তবে এখনো তাকে আইন-শৃংখলা বাহিনী গ্রেফতারকরতে পারেনি। ১১ মে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জাহিদ ইমাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। গত ২৯ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত শেষ করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।
ওই প্রতিবেদনের নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণসহ যাবতীয় বিচার বিশ্লেষণ করে ৫টি অভিযোগে ৭৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শান্তি কমিটির (পিস কমিটি) চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগে ৭৯ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে মোট এক হাজার ৯শত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।
তার বিরুদ্ধে ৩৬ জনকে হত্যা ২শ জনকে ধর্মান্তরিত এবং লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে ৫শ ৫৭টি ঘরবাড়ি ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে২০১৩ সালের ১৯ মে তদন্ত শুরু করে ২৮ এপ্রিল ২০১৪ সালে তা শেষ করা হয়।
মোট সাক্ষী ৪৬ জন। তারমধ্যে ৪০জন ঘটনার এবং ৬ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা।
ঢাকা,কেএ ২০ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম) এসআর





