বসুন্ধরা ও বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
তারা বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পুলিশ ধরে নিয়ে তাদেরকে নির্যাতন করেছে বলে তাদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেছেন।
রিদওয়ান নামে এক শিক্ষার্থীর আইনজীবী অভিযোগ করেন পুলিশ তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পরে বসুন্ধরার প্রত্যেকটি গেটে সতর্ক প্রহরা বসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারি ছিল বেশি।
ওই এলাকায় যাতায়াতকারী গাড়িগুলো তল্লাশি করা হয়। আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকাটির মধ্যে অনেকেই আতঙ্কে দোকানপাট খুলেননি। আর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
সোমবারের পুলিশ, ছাত্রলীগের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঘটনায় ভাটারা থানায় সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলা নম্বর-১০। ওই মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার দিনই বসন্ধুরা এলাকা থেকে তাদের আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৯ দিনের আন্দোলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৩৬টি। নামে-বেনামে আসামি করা হয়েছে অনেককে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে।
এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, মডেল ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, মাহবুবুর রহমান আরমান, মো. আলমগীর হোসেইন ও মো. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ। ওদিকে, আফতাবনগর ও বসুন্ধরা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের মামলায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইনের ৫৭ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় কাজী নওশাবা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। সূত্রমতে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করেননি। লাইভটি খারাপ কোনো উদ্দেশ্যে করেননি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তার সমর্থন ছিল।
আন্দোলন শুরুর পর তিনি নিজেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে আবেগপ্রবণ হয়ে ফেসবুক লাইভে যান। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার জন্য পুলিশ ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তার প্রচার করা তথ্যগুলো যে ভুয়া তখন তিনি বুঝতে পারেননি। নওশাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
জেড





