জঙ্গিরা এখন আর মাঠ নামছে না। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে। ইন্টারনেটে ব্লগ, টুইটার, ফেসবুকসহ শতাধিক একাউনেটর মাধ্যমে ছদ্ম নামে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সদস্য সংগ্রহ ও তাদের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।

পাকিস্থান ভিত্তিক জঙ্গি ফোরাম ‘বাউল ইসলাম’ এবং ‘আনসারুল্লাহ বাংলা’ টিমের বাংলা বিভাগের মিডিয়া প্রধান মোরশেদ আলম ওরফে মাসুম ওরফে ট্রাক্টরকে গ্রেপ্তারের পর এমন কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর কল্যাণপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা’ টিমের বাংলা বিভাগের মিডিয়া প্রধান মোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন সেট, একটি ডিভিডি প্লেয়ার, একটি প্রিন্টার সফটওয়ার সস্মৃদ্ধ সিডি, একটি ভিডিও সিডি ‘দি ম্যাসেজ বাংলা’, ‘যে ঘটনায় ইমান চলে’, আপন ঘর বাঁচান, ছিলাহুল মু’মিন নামে চারটি বই উদ্ধার করা হয়।

মোরশেদ ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে। বর্তমানে সে বাংলালিংক মোবাইল ফোন কোম্পানিতে মোবিসার্বে অপারেশন এ্যান্ড মেইনটেনেন্স বিভাগে নক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিল।

আল-কায়দা নেতা জাহাওয়াহিরির সদ্য প্রকাশিত জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী শাসনতন্ত্রেও প্রতিষ্ঠার মতবাদসহ আরবী, উর্দু ও ইরেজি ভাষায় বিভিন্ন পোস্ট বাংলায় অনুবাদ করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করে ‘একিউআইএস’ এর জন্য মুজাহিদ সংগ্রহে বিস্তারিত পরিকল্পনা করাই ছিল তার ও তার সহযোগীদের উদ্দেশ্য।

মনিরুল ইসলাম বলেন, মোরশেদ ও তার সহযোগীরা ‘বালাকোট মিডিয়া’, ‘তিতুমীর মিডিয়া’, ‘আনসারুল্লাহ বাংলা মিডিয়া’, ‘আল-কাদিসিয়া মিডিয়া’ নামে জিহাদী কার্যক্রম প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের অডিও ভিডিও বক্তব্য তৈরি করে বাউল ইসলাম ফোরাম, আনসারুল্লাহ বাংলা ও দাওয়াহ্ ইলাল্লাহ্ ওয়েব পেইজ, ওয়ার্ড প্রেস, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ও আল-আনসার বাংলা ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ব্লগে বিভিন্ন ইউসারের নাম ব্যবহার করে উগ্র বক্তব্য পোষ্ট করেন। জিহাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার বক্তব্য প্রদান করেন। এরকম উগ্র বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করেও মুজাহিদ সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, তাদের বিভিন্ন ওয়েব সাইটে ‘দাওয়া ইলাল্লাহ্ ফোরামে রেজিষ্ট্রেশন চলছে’ ‘কিভাবে বসে থাকা সম্ভব’, ‘কেন আমি আল কায়দাকে বাছাই করলাম’ ‘নীরবে হত্যার কৌশল’, ‘শরিয়ত নাকি গণতন্ত্র’, ‘তান্ডবকে বর্জন কর’, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস হোক’, নাস্তি ব্লগার চক্র ও তাদের সর্মথনকারী মুরতাদ সরকারের ব্যাপারের আমাদের করণীয়’ ইত্যাদি বক্তব্য তৈরি ও প্রচার করে এই সরকার, সরকারের প্রশাসনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ জানিয়েছে, পাকিস্থান ভিত্তিক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান এ্যাডমিনিসট্রেটর ওমর আফগান যুদ্ধে মারা যান। এর আগে তার সঙ্গে ওমরের ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচয় ও যোগাযোগ হয়।

মোরশেদের দক্ষতা ও নিষ্ঠা দেখে তাকে বাংলাদেশে আনসারুল্লা বাংলা টিমের প্রধান মিডিয়া উয়িংয়ের ও এ্যাডমিনিসট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় বলে দাবি মনিরুল ইসলামের।

তিনি বলেন, মোরশেদ ও তার সহযোগিরা খুব চতুর। তারা সাধারণ টেকনলজি ব্যবহার করে তাদের কর্মকান্ড চালায়। আর সেগুলো খুজে বের করা একটু কঠিন। তারা মোবাইল বা দ্রুত আইনডেন্টিফাই করা সম্ভভ এরকম জিনিস দিয়ে তাদের যোগাযোগ বা কাজ খুব কম করে থাকেন। তাই তাদের ধরতে বেগ পেতে হয়। তারপরও তারা এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদের কাছ থেকে শীর্ষ নেতা ও পলাতক নেতাদের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নিষিদ্ধ বিষয়ে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম আসলে কোন সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকজন মিলে কাজ করে। তাদের উপর গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তবে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুপারিশের কথা ভাবছে।

বিশ্বে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উপর নজর রাখা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, আসলে জঙ্গিরা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই কাজ করে যাচ্ছে। আর সেখানে তাদের নজরদারি রয়েছে।

জেইউ/কেএইচ