গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার আসামিদের কা‌শিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে।

আজ (২৭ ডিসেম্বর) বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজনভ্যানে কারাগার থেকে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান দুপুর ১২টার দিকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার রায় ঘোষণা করবেন।

তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১লা জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে ওই অভিজাত বেকারিতে জঙ্গিদের হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হয়। এসময় তাদের গুলিতে দুজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়। পরে সৈন্যদের কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচজন জঙ্গিও। হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনা সারাদেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালতপাড়া কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ডেকে রাখা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কয়েকস্তরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার এদিন ধার্য করেন বিচারক।

চার্জ (অভিযোগ) গঠনের পর থেকে মোট ৫২ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ সব কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে। হামলার ৩ বছর ৪ মাস ২৬ দিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

হামলায় জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে আসামিপক্ষ থেকেও ‘ন্যায়বিচার’ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. গোলাম ছারোয়ার খান (জাকির) বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের দিকে শুধু দেশবাসীই নয়, সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। তাই সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, আসামিদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক এলাকায় হামলা করে বিদেশিদের হত্যা করা।

জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে যেসব সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়নি। প্রতিটি সাক্ষীর বৈসাদৃশ্য রয়েছে। যা আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। এমতাবস্থায় আদালতের কাছে আমরা ‘ন্যায়বিচার’ প্রত্যাশা করছি।

এমবি