জাল ভিসায় লিবিয়া পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাত মামলার আসামি আসাদুল্লাহ শেখ মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েই দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তাকে একের পর এক হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর এমপি এনামুল হকের পক্ষ থেকে দুদকের উপ পরিচালক যতন কুমার রায়কে হাওয়া করে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। ওই দিন তিনি রমনা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। কিন্তু পুলিশ কোনো অ্যকশনে যায়নি। এবার জাল ভিসায় আদম পাচারকারী আসামি গত ৯ নভেম্বর গ্রেফতারের একদিন পর ১০ নভেম্বর ডিবি পুলিশের কাছ থেকে সহজেই ছাড়া পেয়। ফলে এ আসামি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার সাহস পাচ্ছে।  

দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বলেন, গ্রেফতারের পর (ডিবি) পুলিশ আদালতে হাজির না করে কেন আসামি ছেড়ে দিল এটাই প্রশ্ন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট সোহরাব উদ্দিন এমপি’র কথিত অনুরোধের দোহাই দিয়ে মোটা অংকের  টাকার বিনিময়ে আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর ওই টাকা হজম করতেই এমপি সোহরাব উদ্দিনের কথিত ফোনের ঘটনা সাজিয়েছে তারা।

জানা যায়, আসামি বিভিন্ন নামে একাধিক মোবাইল ফোনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজকে হুমকি দিচ্ছেন। গত ২৪ নভেম্বর ০১৭১৮১২৩১৪৫৬ নম্বর থেকে ‘মানবাধিকার সংস্থার ইন্সপেক্টর’ পরিচয়ে দুদক তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি দেন আসাদুল্লাহ শেখ। বিষয়টি দুদকের গোয়েন্দা শাখার ট্রাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত হন তিনি। আর এ নম্বরটি আসলে আসাদুল্লাহ শেখ সোহেলের ভাই এবাদুল্লাহ শেখের। আসাদুল্লাহ শেখ নিজেই একেক সময় একেক নম্বর দিয়ে হুমকি দেন বলে জানান দুদক কর্মকর্তা। 

জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা থানায় ‘বিপ্লব এন্টার প্রাইজের মালিক মোঃ আসাদুল্লাহ শেখ ওরফে সোহেলের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৮/৩৪ ধারায় মামলা  (নং-১৭) করেন ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত রফিকুল ইসলাম গং। মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় মহানগর হাকিম আদালত থেকে তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের মাধ্যমে দুদকে পাঠানো হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন মমতাজ আরা।

জানা যায়, ‘বিপ্লব এন্টারপ্রাইজ’র মালিক মোঃ আসাদুল্লাহ শেখ ওরফে সোহেল লিবিয়া পাঠানোর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুয়া ভিসায় লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। ময়মনসিংহ জেলাধীন গফরগাঁও উপজেলার বাশুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামসহ ৭ জনের কাছ থেকে ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওই প্রতারক।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আসামি আসাদুল্লাহ শেখ সোহেলের স্থায়ী ঠিকানা নরসিংদী, শিবপুরের আশ্রাবপুর, গির্জাপাড়া এবং ঢাকার উত্তরা রাজলক্ষীর ঠিকানায় নোটিশ পাঠালেও তিনি হাজির হননি।

গত ৯ নভেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) অফিসে এ ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, মামলার আসামি ‘বিপ্লব এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ আসাদুল্লাহ শেখ ওরফে সোহেল মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়।

গত ৯ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের ৫ সদস্যের একটি টিম উত্তরা এলাকা থেকে আসামি আসাদুল্লাহ শেখ সোহেলকে গ্রেফতার করে।  ডিবির এ টিমের সদস্য এস আই মিজানুর রহমান এবং হাবিবুর রহমান। তারা আসামিকে  ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায়  গ্রেফতার দেখিয়ে মিন্টোরোডস্থ ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

পরদিন ১০ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ পাকুন্দিয়ার এমপি এডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের এক টেলিফোনের দোহাই দিয়ে ডিবি পুলিশ আসামি আসাদুল্লাহ শেখ সোহেলকে ছেড়ে দেয়।

পরে দুদক কর্মকর্তা ওই এমপি সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন কোনো আসামিকে ছাড়ানোর জন্য এমপি ডিবি পুলিশকে ফোন করেননি।

এদিকে প্রতারক শেখ সোহেল ডিবি পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম এবং দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি দিচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত রফিকুল ইসলাম জানান, ডিবির পুলিশ কর্মকর্তা মিজান ও হাবিব আদম ব্যাপারি শেখ আসাদুল্লাহর সঙ্গে সমঝোতা করতে পরামর্শ দিয়েছে।

একে, জেএ