নতুন কেলেংকারির জন্ম দিয়েছে মালয়েশিয়ার বহুল আলোচিত রাষ্ট্রয়াত্ত ওয়ান এমডিবি তহবিল।
এ তহবিল থেকে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ( ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) আত্মসাত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুইাজারল্যান্ডের অ্যাটর্নী জেনারেল মাইকেল লবার।
শুক্রবার তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রয়াত্ত্ব তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
১১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পুঞ্জিভূত হওয়ার পর গত বছর সুইজারল্যান্ড এ তহবিলের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।
মূলত রাষ্ট্রয়াত্ত্ব এ তহবিল পরিচালনায় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তের বিষয়ে মাইকেল লবারের অফিস থেকে বলা হয়, ‘মালয়েশিয়ার বর্তমান ও সাবেক এবং আরব আমিরাতের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এ তহবিল থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করেছে।’
পূর্ণ বিচারিক কাজে সহায়তা করার জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের অ্যাটর্নী জেনারেল।
তবে তহবিল থেকে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য করা হয়নি। তবে ওয়ান এমডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘যে কোন ধরনের আইনী কর্তৃপক্ষ বা তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করার জন্য তারা প্রস্তত।’
২০০৯ সালে নাজিব রাজাক মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাত উন্নয়নে ওয়ান এমডিবি তহবিল গঠন করা হয়। এ তহবিলের উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারম্যান হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
গত বছরের জুলাই মাসে ওই সময়ে দেশটির অ্যাটর্নী জেনারেল আবদুল গনি পাতাইল অভিযোগ করেন, ওয়ান এমডিবি তহবিল থেকে নাজিব রাজাকের ব্যক্তিগত অ্যাকউন্টে ৬৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছে।
এরপর অ্যাটর্নী জেনারেলের পদ থেকে পাতাইলকে সরিয়ে দেয় নাজিব সরকার। তবে এ অভিযোগের পর নাজিব রাজাকের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে পড়ে মালয়েশিয়া।
দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তবে নাজিব রাজাক তহবিল থেকে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
গত সপ্তাহে দেশটির অ্যাটর্নী জেনারেল মোহাম্মদ আপান্ডি আলী ওই তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক কোন অর্থ নেননি বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সৌদি রাজ পরিবার থেকে রাজনৈতিক অনুদান হিসেবে অর্থ পেয়েছেন নাজিব রাজাক।অনুদান হিসাবে পাওয়া অর্থের সিংহভাগ রাজ পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র : বিবিসি
এসএইচ





