রাজধানীর রামপুরায় গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার শরিফুল ইসলাম (২৩) ও আবদুর রহমানকে (১৮) ভিকটিমের মুখোমুখি করবে পুলিশ।
রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল রহস্য জানা যাবে— এমনটি দাবি করেছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে তাদের ভিকটিমের মুখোমুখি করলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।’ রিমান্ডে এনেই তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, কয়েকদিন আগে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে খালার বাসায় বেড়াতে আসেন। শুক্রবার বিকেলে খালা বাসায় না থাকায় স্থানীয় কয়েক যুবক বাসায় ঢুকে তার স্বামীর হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রাখে। পরে তারা ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। শনিবার তার স্বামী বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, ভিকটিমের স্বামী মো. মমিন বাদী হয়ে মোট নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দু’জনকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার সকালে রামপুরা থেকে শরিফুল ইসলামকে এবং আবদুর রহমানকে একই দিন বিকেলে বাড্ডা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে আবদুর রহমানকে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে কত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে সেটা জানতে পারেননি তিনি। সোমবার শরিফুলকে আদালতে পাঠানো হবে।
শরিফুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তার বাবার নাম সেলিম মিয়া। আবদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানায়। বাবার নাম আবদুল মান্নান।
ভিকটিমের স্বামী মো. মমিন বলেন, আমাকে মারধর ও আমার স্ত্রীকে ধর্ষণের সময় তারা একে অপরকে যে নামে ডেকেছিল সেগুলোই আমি পুলিশকে জানিয়েছি। পাঁচজনের নাম পুলিশকে বলেছিলাম। শুনেছি, তাদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মমিন তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম বলেন, ইতোমধ্যে ভিকটিমের প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সোমবার আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
এএইচ





