চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কথা কাটাকাটির জের ধরে হেফাজতের কর্মীকে গুলি করেছেন এক কনস্টেবল। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হাটহাজারী থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী পুলিশের গুলিতে আহত মহব্বত ছিদ্দিককে হেফাজতের কর্মী বলে দাবি করেছেন। এছাড়াও তিনি দায়ী পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন।

ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ জনতা হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রাখে। থানার সামনে অবস্থান নেয় লোকজন। জনতার ক্ষোভের মুখে পুলিশ রুমেন সিরাজি নামের ওই কনস্টেবলকে আটক করে। রাত পৌনে ১০ টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গুলিবিদ্ধ মাদ্রাসাছাত্রের নাম নাম মহব্বত ছিদ্দিক (২২)। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার তাফসীর প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানার সামনে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কনস্টেবল রুমেন সিরাজীর সঙ্গে মহব্বত ছিদ্দিকের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ওই কনস্টেবল মহব্বতকে লক্ষ করে নিজের হাতে থাকা শটগান দিয়ে গুলি করেন। এতে মহব্বতের পায়ে গুলি লাগে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার ছাত্রসহ স্থানীয়রা হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে মাদ্রাসা ছাত্রদের সরিয়ে নেন শিক্ষকরা। কিন্তু স্থানীয় লোকজন থানার সামনে অবস্থান নেন। তবে স্থানীয়রাও পরে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কনস্টেবল শিলাব্রত রাতে বলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাত্রের মেরুদণ্ড ও বাম পায়ের মাংসপেশিতে গুলি লেগেছে। তার অস্ত্রোপচার চলছে।

হাটহাজারী থানার ওসি মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মাদ্রাসা ছাত্রকে গুলি করে কনস্টেবল রুমেন সিরাজী। রুমেনকে আটক করা হয়েছে। আগে তার মাথায় সমস্যা ছিল। এ কারণে গুলি করতে পারে। আহত মাদ্রাসা ছাত্রকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যানচলাচল বন্ধ থাকলেও এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

এএইচ