বহুমুখী চাপের মুখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী হিসেবে বিদেশীদের সম্মাননার ক্রেস্টে সোনা জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগের অনুসন্ধানী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
সূত্র মতে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দাবীদার সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় ভাবে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ সহায়তাকারী বিদেশীদের পুরস্কৃত করার জন্য সাড়ে ৭ কোটি টাকার সোনার ক্রেস্টের জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেয় আমলারা।
আর এ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক মন্ত্রী, এমপি,রাজনৈতিক নেতা এবং ঠিকাদার। এ চক্রটি বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদাকে ম্লান করে দিয়েছে। এ সরকারের প্রভাবশালী জনৈক মন্ত্রী ওই সময় ‘মন্তব্য করেন, বিদেশীদের সম্মাননার ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়েছে এটাই যথেষ্ট’। এতে সোনা কম আছে না বেশি আছে এটা নিয়ে হৈচৈয়ের কি আছে।
কিন্তু এবার দুদক কর্মকর্তারাও ক্রেস্টের সোনা চোরদের ছেড়ে দেয়ার কৌশল খোঁজছেন। দুদকের অনুসন্ধানী কার্যক্রম নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন কথাও শোনা যাচ্ছে মন্ত্রণলয়ের কতিপয় সোনা লোভী আমলা, রাজনৈতিক নেতা এবং কর্মকর্তাদের স্বার্থ রক্ষায় দুদক এ বিষয়ে আর এগুতে চাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষার জন্যই তড়িঘড়ি করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় একটি মামলা দায়ের করে। আর দুদকও বিষয়টি নিয়ে কেনো এগুচ্ছে না।
অথচ বিদেশীদের কাছে ওই চক্রটি বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছে। এসব অপরাধীদের কোনো ভাবেই রেহাই দেয়া ঠিক হবে না। সোনার বাংলায় প্রতারক চক্র বিদেশীদের দেয়া ক্রেস্টের সোনা চুরিতে পিছিয়ে নেই এমন মন্তব্য করেন অনেকে।
সূত্রমতে, দুদক ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়ের করে।
পরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু বিষয়টি জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত বিধায় দুদকের সিডিউল ভক্ত। যারফলে পুরো বিষয়টি অনুসন্ধান এবং তদন্তের দায়িত্ব দুদকের উপর ন্যাস্ত করা হয়। ওই সময় দুদক এসব নথিসহ যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বলে জানা যায়।
ক্রেস্টে সোনা জালিয়াতির বিষয়টির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক সরকারের কাছ থেকে বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান সংক্রান্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত, জাতীয় কমিটির সভার এজেন্ডা, রেজুলেশন, ক্রেস্ট তৈরির দরপত্র, দরপত্র মূল্যায়ণ সভার রেজুলেশন, ক্রেস্ট সরবরাহকারী দুই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান, ক্রেস্টের মান ও পরিমাণ যাচাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন, হিসাব ও বিল পরিশোধ সংক্রান্ত রেকর্ড-পত্র সংগ্রহ করে।
সূত্র মতে, ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনায় গত ১২ জুন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম এবং সহকারি পরিচালক শেখ আব্দুস সালামের অনুসন্ধানী তথ্য উপাত্ত চেয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান।
আর ওই চিঠিতে ১৯ জুনের মধ্যে তথ্য চাওয়া হয়। তবে গত ২২ জুন মন্ত্রণালয় থেকে কিছু নথিপত্র দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তাদের দেয়া। আর ওই দিন দুদক কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রাপ্ত নথিপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রয়োজন হলে, তারা আবার নথিপত্র চাইবেন ।
ওই সময় দুদকের অনুসন্ধানী টিম ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির ঘটনার, প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা পর সরকারের সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী,এমপি আমলাস সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার কথা ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের খসড়া ওই তালিকায় নাম ছিল সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:) তাজুল ইসলাম, সাবেক সচিব মোঃ মিজানুর রহমান, সচিব কে.এইচ. মাসুদ সিদ্দিকী, সম্মাননা উপ-কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) গোলাম মোস্তফা, তৎকালীন যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার, মজিবুর রহমান মামুন, সিনিয়র সহকারি সচিব মোঃ বাবুল মিঞা, ক্রেস্ট সরবরাহকারী এমিকনের মালিক দাউদ আহমেদ নাজিম, মেসার্স মহসিন হাসানের মালিক মহসিন হাসান এবং ক্রেস্টের মান ও পরিমাণ নির্ণয় ও প্রত্যয়নকারী তিন কর্মকর্তার নামও ছিল।
একে/এসএইচ





