একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলী মিন্টুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
রোববার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রামের পটিয়া থানার হুলাইন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী (৬০) সাক্ষ্যে বলেন, ৭১ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এক গভীর রাতে আল-বদরের সদস্যরা আমাকে চোখ বেঁধে মারতে মারতে ডালিম হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি অন্ধকার হোটেলে ঢুকিয়ে আমাকে তারা নির্যাতন করে। আমার কাছ থেকে কিছু না পেয়ে তারা চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে চলে যায়।
সাক্ষী বলেন,কিছুক্ষণ পর এসব আল-বদরদের সাথে নিয়ে মীর কাশেম আলী ওই কক্ষে প্রবেশ করে জানতে চায় ‘ওর কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পারোনি? ওকে আরো পেটাও। এরপর আল-বদররা তাকে লাঠি,লোহার রড,ইলেকট্রিক তার এসব দিয়ে ইচ্ছেমতো পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে মীর কাশেম আলীও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিছুই আদায় করতে না পেরে আল-বদরদের নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায় এবং তাকে পেটাতে পেটাতে রক্তাক্ত করে এক পর্যায়ে তারা বেরিয়ে যায়।
তিনি বলেন,হোটেলের ওই কক্ষে থাকা অবস্থায় অন্য কক্ষ থেকে আরো মানুষের আর্তনাদের শব্দ আমি শুনতে পেয়েছি। ওইসব মানুষকে সেখানে নির্যাতন করা হতো। আমাকেও হোটেলের এক রুম থেকে অন্য রুমে নিয়ে প্রায়ই নির্যাতন করা হতো।
সাক্ষী বলেন,সহবন্দীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন মীর কাশেম আলীর নির্দেশে ও তার উপস্থিতিতে অনেক বন্দীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের লাশ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী বলেন,আল-বদরের একজন ছেলে সম্ভবত তার নাম পংকজ বা স্বপন। সে জানায়,হাজারি গলির টুনটু সেন,রনজিত দাশ ও সন্দীপের মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে ডালিম হোটেলের ছাদে নিয়ে মীর কাশেম আলীর নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে নির্যাতন করে হত্যার পর তাদের লাশ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
তিনি বলেন,চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট এলাকার দেওয়ান হোটেল এবং চাক্তাই এলাকার চামড়ার গুদামে টর্চার সেলটিও মীর কাশেম আলীর নির্দেশে পরিচালিত হতো।
সাক্ষ্য শেষে আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর ওপেনিং স্টেটমেন্টের জন্য ঠিক ছিল। ওই দিন রিভিউ আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ পাঠিয়ে দেন।
এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তরের আদেশ দেন।
গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-১।
গত বছরের ১৬ মে অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুমসহ রাষ্ট্রপক্ষ ১৪টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের কাছে দাখিল করেন। গত বছরের ২৬ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল -১।
মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনিত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১১ ও ১২ নাম্বার অভিযোগ ছাড়া বাকী সব অভিযোগই আটক করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।
গত বছরের ৬ মে মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে হত্যা,গণহত্যা,নারী নির্যাতন,অগ্নিসংযোগ, লুন্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪ টি অভিযোগে তদন্ত চুড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা রাষ্ট্রপক্ষ জমা দেন।
গত ২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলে মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ের (দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন) থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিকেলে ট্রাইব্যুনালে হাজির কারা হয়।
[b]ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) // কেএইচ[/b]
অপরাধ
মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলী মিন্টুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী নাসিরুদ্দিন চৌধুরীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।





