কুমিল্লায় হত্যা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা ২টি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৬ মাসের জামিন পেয়েছেন। এছাড়া, নড়াইলে মানহানির একটি মামলায় উত্থাপিত হয়নি মর্মে তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

আজ (সোমবার) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।   

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় হত্যা, বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতা ও নড়াইলে মানহানি মামলায় জামিন শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার (২৮ মে) দিন ধার্য করেন আদালত।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা জানান, নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও বাস পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় করা ২টি মামলায়৬ মাসের জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। 

মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা ১ মামলায় জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

কুমিল্লার মামলা: ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হায়দার পুলের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১এ চলমান। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।

নড়াইলে মানহানি মামলা: ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২-এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এ মামলাটি জামিনযোগ্য।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

এমবি