এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরিতে খরচ ৩ হাজার টাকা। বিক্রি করা হয় ১২ হাজার টাকায়। লাভ হয় মাত্র ৯ হাজার টাকা। আর এ টাকা তৈরির টাকশালে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব।
রোববার সকাল সাড়ে ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
শনিবার রাতে মিরপুর মধ্যপাইকপাড়া এলাকা থেকে এক কোটি জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বাসেদ আলী, দুলাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম ওরফে রাসেল, রফিকুল ইসলাম, কামাল ফরাজী, সেন্টু হাওলাদার ও মনির খাঁ।
তাদের কাছ থেকে এক কোটি ১০ লাখ টাকার জাল নোট, টাকা তৈরির কাগজ, ফ্রেম, নিরাপত্তা সুতা, ল্যাপটপ ও প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।
কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা বিক্রির খবর পেয়ে মিরপুরের ফালগুনি রোডে ১৮৯/২/এ নম্বও বাড়ি থেকে জাল টাকাসহ বাসেদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে মিরপুর মধ্যপাইকপাড়ার কাকলী রোড পূর্ব আহাম্মদ নগরে একটি বাড়ির সাততলা থেকে এই দলের মূল হোতা রফিকুলসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা এই প্রথম গ্রেফতার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ৫/৬ বছর ধরে তারা এ ব্যবসা করে আসছিল। আর ওই বাসাটি মার্চ মাসে ভাড়া নিয়ে এই জাল টাকার টাকশালে টাকা তৈরি করে আসছিল।
রফিকুলের কাছ থেকে পাইকারী কারবারীরা এবং পরে তা আবার খুচরা কারবারীদের কাছে বিক্রি হয়ে থাকে।
যুগ্ম কশিনার আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা মূলত জাল টাকা তৈরির কাজ করত। তাদের কাছ থেকে বিপননে কিছু লোকের নাম পাওয়া গেছে। তারা তা যাচাই বাছাই করে দেখছেন এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি মুলত রুট। এর শাখা প্রশাখার সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
জাল টাকা প্রস্তুতকারী চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঈদে এবার তারা বেশি সুবিধা করতে না পারায় তাদের টার্গেট ছিল এই টাকা গ্রামে-গঞ্জে এবং ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজস করে এই জাল টাকা চালানোর চেষ্টা করে থাকে। তারা এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেইউ/এসএইচ





