বাংলাদেশ ও ভারতের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে সাত হত্যা মামলার আসামি নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার বিপরীতে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, অনুপ চেটিয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ আরও বড় স্বার্থ আদায় করতে পারতো।

আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম-উলফা, স্বাধীনতা লাভের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন করে আসছে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। অনুপ চেটিয়া এই সংগঠনটিরই সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে আটক করা হয় তাকে। পরে বিভিন্ন মামলা শেষে জেল হাজতে পাঠানো হয় তাকে।

এদিকে চলতি বছরের জুন মাসে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় নূর হোসেনকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভারতের কলকাতায় চলে যায় নূর হোসেন। পরে সেখানে তাকে গ্রেফতার করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে এখন পর্যন্ত তার বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহিঃসমর্পন চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিনিময় করতে পারবে। তবে, নূর হোসেন এবং অনুপ চেটিয়ার অপরাধের ধরণ ভিন্নরকম হওয়ায় উভয় দেশের সিদ্ধান্তকে অসম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'নূর হোসেন হচ্ছে সন্ত্রাসী এবং তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণেই তাকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অনূপ চেটিয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন, অনূপ চেটিয়া একটা স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছেন।'

উলফার এই নেতার বিপরীতে নূর হোসেন ছাড়াও নানামুখী স্বার্থ আদায়ের সুযোগ বাংলাদেশের ছিল বলে দাবি করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম বলেন, 'বাংলাদেশ অনূপ চেটিয়াকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ভারত থেকে আরও বড় কিছু পেতে পারত, সুতরাং আমার মনে হয় নূর হোসেনের বিপরীতে অনূপ চেটিয়াকে ফেরত দেওয়া ঠিক হবে না।'

বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নূর হোসেনের বিশেষ চাহিদা থাকায় ভারত এই সুযোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তারা।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই