সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল সোমবার (০৩ জুলাই) রায় ঘোষণার জন্য কার্যতালিকায় উঠেছে।
আজ রোববার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য বনাম আইনজীবী আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী এবং অন্যান্য হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল রায় ঘোষণার জন্য সোমবারের কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে বিষয়টি রায়ের জন্য রয়েছে। বেঞ্চের অপর ৬ সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
ওই সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর ১১তম দিনে গত ১ জুন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর আজ বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সোমবারের কার্যতালিকায় বিষয়টি রায় ঘোষণার জন্য রয়েছে বলে দেখা যায়।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের ৩ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১ জুন শেষ হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন, যাঁদের মধ্যে ১০ জন আদালতে মতামত উপস্থাপন করেন।
এঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন।
অপর অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর দু’জন মত উপস্থাপন করেননি।
এমবি





