রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সদরঘাট থেকে সুন্দরবন-৭ নামে একটি লঞ্চ প্রায় ৩ হাজার যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্য বেলা ১.৩০টার দিকে যাত্রা শুরু করে।

কিন্তু যাত্রার ১ ঘন্টা পর লঞ্চটি যখন বেশ কিছুদূর চলে যায় তখন শুধুমাত্র এক ব্যক্তির স্বার্থে সুন্দরবন-৭ লঞ্চটিকে আবারও সদরঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।

লঞ্চে প্রায় ৩ হাজার যাত্রী রয়েছেন। লঞ্চ সদর ঘাটে ফিরে আসায় যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

তারা সঠিক সময়ে তাদের বাসস্থানে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে যাত্রীরা শঙ্কিত। এতে যাত্রীদের মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

সুন্দরবন-৭ এর সুবাশিষ রায় (৩০) নামে এক যাত্রী বলেন, সুন্দরবন-৭ বেলা দেড়টার দিকে বরিশালের উদ্দেশ্য ৩ হাজার যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। লঞ্চের যাত্রার ১ ঘন্টা পর বরিশালের মেয়র আহসান হাবীব কামালের ফোনে এমভি সুন্দরবন-৭ আবার ঘাটে ফিরে আসে।

তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, একজন ব্যক্তির স্বার্থে যদি আমরা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ি, তাহলে কিরুপ স্বাধীন হতে পেরেছি আমরা। আর এজন্য কি আমরা তাদের ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচন করেছি যে তারা যখন যা খুশি তাই করবেন।

সুন্দরবন-৭ এর অন্য এক যাত্রী বলেন, মেয়র বলেই তিনি তার পেশী শক্তি ব্যবহার করতে পেরেছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। তার সময়ের মূল্য আছে, কিন্তু আমাদের সময়ের কোন মূল্য নেই। এখন আমরা খুবই চিন্তিত যে সঠিক সময়ে যেতে পারবো কি-না ?

লঞ্চের অন্য এক যাত্রী বলেন, মেয়রের এই খামখেয়ালিপনার কারণে বরিশালে লঞ্চটি পৌঁছাতে রাত ১ টা বাজতে পারে। উনি তো ওনার লাক্সারিয়াস প্রাইভেট কারে করে বাসায় চলে যাবেন, কিন্তু আমরা সেই গভীর রাতে কই যাবো?

এ ব্যাপারে সুন্দরবন-৭ এর সুপারভাইজার হারুণ-অর-রশিদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সদরঘাটে প্রশাসনিক জটিলতার কারনে আমরা লঞ্চ ঘাটে রাখতে পারিনি তাই শ্যামবাজার নিয়ে রাখি।

মেয়র আহসান হাবিব কামালের ফোনে সুন্দরবন-৭ সদরঘাটে ফিরে এসেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে বলেন, এমন ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এসএইচ, কেবি