মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে সরকার।
আবদুল আলীমের বড় ছেলে ফয়সাল আলিম জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুপুর পৌনে ১টায় পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও জানান, আজ বাদ আছর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল সোমবার বাদ জোহর জয়পুরহাট শহরে বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।
আবদুল আলীম গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
ফয়সাল আলীম জানান, তার পিতা ফুসফুসে ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। বেলা ১টা ১৫ মিনিটে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত বছরের ৯ অক্টোবর আবদুল আলীমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। তিনি দীর্ঘ দিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। হুইল চেয়ার এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ (এ কে এম) ইউসুফের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার বিচার চলা অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন।
বয়োবৃদ্ধ আবদুল আলীম কানেও শুনতে পেতেন না। রায় ঘোষণার পর তিনি ছেলে সাজ্জাদ বিন আলীমকে বলেছিলেন, শুনতে পাই না কী বলছে। ছেলে সাজ্জাদ বুঝিয়ে বলেছিলেন তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আবদুল আলীম ১৯৩০ সালের ১ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি থানাধীন পাঁদুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০-৫১ সালে আলীমের পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জয়পুরহাটে এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ এবং ১৯৫৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে তিনি কনভেনশন মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। ১৯৭৫ ও ১৯৭৭ সালে তিনি জয়পুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে জয়পুরহাট পাঁচবিবি আসন থেকে আবদুল আলীম এমপি নির্বাচিত হন। আবদুল আলীম ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বস্ত্রমন্ত্রী ও পরে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





