আদালতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আমাকে রিমান্ডে নিয়ে কী হবে? সবাই জানে, সারা দুনিয়া জানে, একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে।’
সেনাবাহিনীকে বাহিনীকে বিদ্রোহে উসকানির অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান মান্নাকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৩টা থেকে ৪০ মিনিট শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মান্না আদালতে এ কথা বলেন।
এ সময় মান্না আদালতে আরো বলেন, ‘আমিতো সবকিছুই বললাম। আমাকে রিমান্ডে নিয়ে কী লাভ হবে? আর যিনি আমাকে রিমান্ডে নেবেন তিনিই বা কী বুঝবেন?’
এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মান্নার স্ত্রী মেহের নিগা, মেয়ে নিলম মান্না, তার বড়ভাই ও ভাবী বেগম সুলতানা। বিকেল ৩টার পর মান্নাকে আদালতে আনা হয়।
মান্নার আইনজীবী মহসিন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, রিমান্ডে নিয়ে অযথা আমার মক্কেলকে হয়রানি করা হবে। তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ কারণে তাকে হয়রানি করতে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, মান্নাকে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা আছে। তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। ওই অজ্ঞাতের পরিচয় জানতেই রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন বেগবান করার বিষয়ে ঢাকার প্রাক্তন মেয়র ও বিএনপির নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে মান্নার কথোপকথনের দুটি অডিও ফাঁস হওয়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি লাশ পড়লেও পড়ুক বলে কথোপকথনে মন্তব্য করেন মান্না।
অডিও ফাঁস হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও কয়েকজন মন্ত্রী মান্নাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছিলেন। ছাত্রলীগ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মান্নাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে বনানীর এক বাসা থেকে সাদা পোশাকধারী ডিবি পরিচয়ে কে বা কারা মান্নাকে ধরে নিয়ে যায়। মান্নার পরিবার তখন দাবি করেন, তাকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।
এর আগে, রাষ্ট্রদ্রোহ, সাধারণ মানুষের জানমালের হুমকি ও দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ, রমনা, মতিঝিল, পল্টন, গুলশানসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ৩০টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সাধারণ জনগণ।
পুলিশ জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে মান্নাকে র্যা ব-১ আটক করে। এরপর তার বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়। রাত ১২টা পর তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
জেআই





