আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেছেন, মীর কাসেমের মামলায় তাদের (তদন্ত সংস্থার) তদন্তে কোনো ত্রুটি ছিল না। কোনো গাফিলতিও ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধী মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তদন্ত সংস্থার প্রধান। এ মামলার তদন্তে গাফিলতির বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা আলোচনার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেছেন, মীর কাসেমের মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়ার রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকায় আমরা খুশি। রায়ের কপি পাওয়ার পর কী কী কারণে মীর কাসেমের কয়েকটি আপিল মঞ্জুর করা হলো, তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কাজ করা হবে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল রাখেন।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেমকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আপিল করেন মীর কাসেম। গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওই আপিলের শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি। পরে রায় ঘোষণার জন্য আজকের (৮ মার্চ) তারিখ ধার্য করেন আদালত।

২০১২ সালের ১৭ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১৩ সালের ১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৪ জন ও আসামিপক্ষে তিনজন সাক্ষ্য দেন। চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এসটি