রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, ভুয়া বাড়ি ও গাছ-পালার ক্ষতি পূরণ দেয়ার নামে জালিয়াতির মামলায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের ( দুদক)নিয়মিত সভায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৬/৪০৯/৪২০/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়।

চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের দফতরের ৮ জন, রাজউকের ১০ জন এবং পটুয়াখালীর সুবিধাভোগী ও জালিয়াতী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারী একই পরিবারের ৭ জন রয়েছে।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের: সাবেক সার্ভেয়ার ফজলু উল্লাহ আমিন, কানুনগো মো. ইসহাক, সাবেক অতিরিক্ত ভুমি হুকুম দখল কর্মকর্তা গাজী রবিউল আইয়াল, সাবেক কানুনগো মো. মিজানুর রহমান, সার্ভেয়ার মো. আবু তাহের, সাবেক কানুনগো মো. হাসান শহীদ, সাবেক ভুমি হুকুম দখল কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন খান।

রাজউকের: কানুনগো মো. খলিলুর রহমান, বদর আমিন মো. ছফির উদ্দিন, সাবেক অতিরিক্ত ভুমি হুকম দখল কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক সহকারি পরিচালক (ভুমি) এয়ার আহমেদ মজুমদার, সাবেক সার্ভেয়ার গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাইদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌলী মো. মনোয়ারুল ইসলাম, উপসহকারি প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, সাবেক সহকারি প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন, সার্ভেয়ার এসএম হাবিবুর রহমান,

সুবিধাভোগী পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলা কনকদিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদেও স্ত্রী নুরুন নাহার, ছেলে ফজল মোহাম্মদ রানা, ছেলে ফিরোজ মোহাম্মদ, মেয়ে আকলিমা খাতুন, মেয়ে রাফিয়া আক্তার তুলি, মেয়ে নাছিমা আক্তার ও মেয়ে ফাতিমা বেগম এই পরিবারটি বর্তমানে গাজীপুর জেলায় টংগী থানার ৬৫/৫ ইউনুস আলী রোডে বসবাস করেন।

এ জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে সাবেক দুর্নীতি দমন ব্যুরো বর্তমান দুদক ২০০০ সালের ১৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম। মামলানং- ১৭।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ শুরু করে। ওই সময় পটুয়াখালীর বাসিন্দার নুর মোহাম্মদ রুপগঞ্জ থানার কামতা মৌজার আর এস ২৮০ নং দাগের ২৩৪ মতাংশ জমি মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন।

কিন্তু অধিগ্রহণকালে ওই জমিতে বাড়ি, গাছ পালা দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ওই কর্মকর্তারা একটি তালিকা তৈরি করেন। তালিকায় নুর মোহাম্মদ গংদের নামে গাছ-পালার ক্ষতি পুরণ- ৩১লাখ ৪ হাজার ৭৮৭ টাকা, বাড়ি ঘর ৩৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৬ টাকা।

পরে রাজউক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের যৌর্থ জরিপে গাছ-পালা ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৮১ টাকা এবং বাড়ি ঘর ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০৬ টাকা এ ওয়ার্ড প্রস্তুত করেন। তারা ৮১ লাখ ১৫ হাজার ১১৭ টাকা উত্তোলন করেন।

এদিকে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে সরেজমিন সার্ভে করে পাওয়া যায়, আসামি নুর মোহাম্মদরে ২৮০ নং দাগের ২৩৪ শতাংশ আবাদি জমিতে কোনো বাড়ি ঘর নেই তবে কয়েকটি গাছ পালা আছে। যার মূল্য মাত্র দেড় লাখ টাকা হবে।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাজউক থেকে নুর মোহাম্মদের মাধ্যমে ভুয়া ক্ষতিপূরণের তালিকায় অতিরিক্ত ৭৮ লাখ ৮৯ হাজার ২১১ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ঢাকা, একে, ১৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসআর // এআর