সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানিতে বিরোধিতা করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক আইনজীবী জানিয়েছেন, আইনগতভাবে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিনের আবেদন দাখিল করার পর তা আজই রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের কপি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দিতে হয়। এই কারণে জামিন আবেদনের কপি সরবরাহ করা হয়।
জামিন আবেদনের কপি পাওয়ার পর দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামিনের আবেদনের কপি হাতে পেয়েছি। আবেদনটি পড়েছি। সেখানে তেমন নতুন কিছু নেই। শুধুমাত্র নতুন বিষয় হলো, আবেদনে বলা হয়েছে গত ১২ ডিসেম্বরের পর থেকে দিনদিন খালেদা জিয়ার শারীরীক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তাই তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে তথা ইউকে’তে (যুক্তরাজ্য) নিতে চান।
খুরশীদ আলম বলেন, আদালতে জামিনের আবেদন আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে। সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনগতভাবে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন হাইকোর্ট। পরে ওই বছরের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
পরে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর এ মামলায় তার জামিন আবেদন পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তবে আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) যদি সম্মতি দেন তাহলে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৯ সালের ০১ এপ্রিল থেকে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া।
এমবি





