নারায়ণগঞ্জের সেভেন মাডার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের অবৈধ অর্থ-সম্পদ অনুসন্ধানের কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অর্থাৎ দুদকের অনুসন্ধানী কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে।

নূর হোসেনের অবৈধ অর্থ-সম্পদের সাম্রাজ্যে হানা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে দুদক রহস্যজনক কারণে নিরবতা পালন করছে। ফলে নানা প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

এদিকে ভাবরতের একটি কারাগারে আটক এবং ওই দেশের আদালতে নূর হোসেনের বিচার চলছে। আইনী জটিলতার কারণে তাকে সহসা বাংলাদেশে ফেরত আনাও সম্ভব হচ্ছে না।
আর বাংলাদেশে নূর হোসেনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

গত ২৫ মে দুদক সচিব মোঃ ফয়জুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের ননা প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, নূর হোসেনের অবৈধ অর্থ-সম্পদের অনুসন্ধানে শুরু হচ্ছে। গত ২৯ মে পলাতক আসামি নূর হোসেনের সম্পদ অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এর এক সপ্তাহ আগে দুদক কমিশনারমোঃ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাংবাদিকদের বলেন, নূর হোসেনের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক টিম নারায়ণগঞ্জ অঞ্চর চষে বেড়াচ্ছে।
বাস্তবে গত দেড় মাসেও অনুসন্ধানের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে দুদক উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এখনো নারায়ণগঞ্জ এলাকা পরিদর্শনে যাবার সময় পাননি বলে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সেভেন মাডার মামলার প্রধান আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি নূর হোসেন গত ২ দশকের ব্যবধানে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তার সম্পত্তি ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া পর্যন্তও বিস্তৃত রয়েছে। সড়ক ও যোগাযোগ খাতে মাদক পরিবহন, ব্যবসা, ট্রাকের তেল চুরি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নদী দখল , সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লায় অবৈধ বালুর ব্যবসা, চিটাগাং রোড ট্রাক স্ট্যান্ডে বছরের পর বছর ধরে চলে জুয়ার আসর।

ধীরে ধীরে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হবার সঙ্গে বেড়ে যায় তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং প্রভাব।

ঢাকা, একে, ১২ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) জেআই