এবার নতুন রুটে মানবপাচার শুরু করেছে অবৈধ আদম ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা। কক্সবাজার হয়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া পাচারকালে হাজার হাজার অভিবাসী আটকের পর চক্রটি নতুন এ রুট বের করেছে। তারা সমুদ্র পথে সরাসরি মালয়েশিয়া না গিয়ে আকাশ পথ ব্যবহার শুরু করেছে।

এই চক্রের কয়েক সদস্য জানিয়েছে, পালাউয়ে যেতে কোন ভিসা লাগে না। আর এ কারণেই তারা অভিবাসীদেরকে আকাশ পথে প্রথমে পালাউয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। পরে সেখান থেকে এসব অভিবাসীকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করার কথা ছিল।

রোববার পৃথক দু'টি অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখান ও মতিঝিল থেকে মানবপাচারকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সোমবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের(উত্তর) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত পাচারকারীরা হলেন, মো. গোলাম রাব্বানী, মো. শাহদাৎ হোসেন এবং মো: শফিকুল ইসলাম। এসময় পাচারের উদ্দেশ্যে হোটেলে অবস্থান নেয়া ১৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

শেখ নাজমুল আলম বলেন, এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণখানের আশকোনা বাজারে হোটেল ডিরিফাজ থেকে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এসব ভুক্তভোগীকে অস্ট্রেলিয়ার দীপরাষ্ট্র পালাউয়ে পাঠানোর উদ্দেশ্যে হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, পালাউয়ে যেতে কোন ভিসা লাগে না। এ কারণেই প্রথমে এদের পালাউয়ে নিয়ে গিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৭ লক্ষ করে টাকা নেয়া নিয়েছিল জিএলসি প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানই তাদের হোটেলে রেখেছিল।

পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহামুদুর রহমান ও ম্যানেজার বাবুল হোসেন, ক্যাশিয়ার মো. মাহফুজুর রহমান, মো. মাহাবুব ও ওবাইদুর পালিয়ে যায়।

ভূক্তভোগীদের উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে টাকা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওই হোটেল নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ফ্লাইটের সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের বিদেশে পাঠানো হয়নি।

পরে মো. কবির আহম্মেদ নামে একজন পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয বলে জানান নাজমুল আলম।

অপরদিকে মতিঝিলের ফকিরেরপুলের জি-ন্যাট টাওয়ারের সামনে থেকে সফিকুল ইসলাম নামে আরো এক মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এমআর/ এআর