এলজিইডি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ইতিমধ্যে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ পরিচালক মাহমুদ হাসানকে এলজিইডি’র ওই প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
দুদক ও এলজিইডির সূত্রমতে, প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী শামীম সুলতানা পপির বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভবন, ফিলিং স্টেশন, বাগানবাড়ি এবং আবাদি জমিসহ কয়েক শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে।
জানা যায়, প্রকৌলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের সোস্যাল ইনভেমেন্ট ব্যাংকের ৩টি এফডিআর (সঞ্চয়ী আমানত) ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, পূবালী ব্যাংকে এফডিআর ১০ কোটি টাকা রয়েছে।
তবে ওয়ান ইলেভেনের পর পূবালী ব্যাংকে ওই ১০ কোট টাকার এফডিআর ভাঙ্গাতে গিয়ে তিনি নানা ঝামেলায় পড়েন এমন অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ঢাকায়, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংকে তার আরও কয়েক শত কোটি টাকা নামে-বেনামে থাকার অভিযোগ আছে।
সূত্র মতে, তার ৩ মেয়ে কানাডায় অবস্থান করছেন। সরকারের অনুমতি ছাড়াই বেশ কয়েকবার তিনি কানাডা সফরে যান। এমনকি তিনি কানাডার নাগরিকত্ব নেয়ার চেষ্টায় আছেন। তার একাধিক পাসপোর্ট থাকার অভিযোগও উঠেছে।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে, প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের রাজধানীর উত্তরায় আধুনিক হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ৯ নম্বর সেক্টর, রোড নম্বর-১ প্লট নম্বর ৫০ রাভিয়া ভিলা নামে বিশাল ভবন।
মিরপুরে ৩৫৩/১/বি   দক্ষিণ  পাইকপাড়া মেইন রোডের সঙ্গে ৬ তলা ভবন। গাজীপুর  জেলার কাশিমপুর সুরাবাড়ি মৌজায় বিএডিসি অফিসের  পশ্চিম পাশে ৩ বিঘা জমির উপর বিশাল বাগান বাড়ি। সাভারের ভাকুর্তায় তার ১০০ বিঘা জমি রয়েছে।
সূত্র মতে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া এবং প্রকৌশলী মাহবুব যৌর্থভাবে রাজধানীর মহাখালীতে ‘রয়েল ফিলিং স্টেশন’ নির্মাণ করেন। আর এই ফিলিং স্টেশনের অর্ধেক মালিকানা রয়েছে এই প্রকৌশলীর। এর বাইরে সাভার রোডে তার আরও ২টি ফিলিং স্টেশন আছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তার স্ত্রী শামীম সুলতানা পপির নামে রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাপুর মৌজায় পুকুরসহ ৭৭ শতাংশ জমি রয়েছে।
প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদকে আরও অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল হাসানের সহযোগিতায় চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপি পন্থি প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা লোপাট করেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকার সুবাধে তিনি নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির  মাধ্যমে এইসব অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে তিনি কখন কিভাবে কোন প্রকল্পের কত টাকা লোপাট করেছেন তার বিস্তারিত বিবরণ।
আরও জানা যায়, তিনি মহাজোট সরকারের আমলে রাতারাতি আওয়ামীলী এবং ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজে চাকরিতে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। এ বিষয়টি নিয়েও দুদক ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
২০১০ সালের ২২  ফেব্রুয়ারি মু্ক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র বাতিল করে। পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি এই প্রকৌশলী নিজেকে ‘ব্যবসায়ী উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ‘সাময়িক সনদপত্র’র জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তার আবেদনপত্রে জম্ম তারিখ না করা সত্বেও তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাময়িক সনদ পেয়েছেন। এমনকি এই সনদে উল্লেখিত ‘ম-১৯৫৩৬৮’ নম্বরটি মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে প্রকৌশলী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক না। তিনি বলেন, আগামীতে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী হবার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্যই তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হচ্ছে। যাতে তিনি প্রধান প্রকৌশলী হতে না পারেন, সে জন্য তার সিনিয়র প্রকৌশলী বিভিন্ন জায়গায় বেনামে অভিযোগ দিচ্ছেন।  
[b]ঢাকা, একে, ৫ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]