মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলায় আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা তার পক্ষে শুনানি শুরু করেন।

আদালতে আসামীপক্ষে শুনানি করেন এসএম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যার্টনি জেলারেল মাহবুবে আলম।

আজ অভিযোগ ৩ এবং ৪ এর অর্ধেক অংশের উপর আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগ-৩ এ রাষ্ট্রপক্ষে ৬ জন এবং আসামী পক্ষে ১ জন সাক্ষ্য দেয়।

এতে আইনি যুক্তি হচ্ছে -এক, সোহাগপুরে তিন জন মহিলা কে ধ্বর্ষন করার অভিযোগ অথচ তিন মহিলা কেউ কামারুজ্জামানকে স্বাধীনতার আগে থেকে চিনত না।

দুই, সাক্ষীরা আদালতে এসে যে ঘটনার অভিযোগ করছেন তা ২৫ জুলাই ১৯৭১ সালে হত্যার ঘটনা। কিন্তু সাক্ষী তিন মহিলা আলাদা আলাদা তারিখ বলছে। কেউ বাংলা শ্রাবন মাসের ৯, কেউ ১০, কেউ ১১ তারিখের কথা বলছে।

তিন, মামলার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২) শুরুতে তিন মহিলাকে সাক্ষী করা হয়নি ৯ জন সাক্ষীর জবান বন্দী গ্রহণ করার পর(২৮ সেপ্টেম্বর ২০১২) মামলার আই ও সাক্ষী হিসেবে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করেন।

অভিযোগ -৪, গোলাম মোস্তফা হত্যা ২৩ আগষ্ট ১৯৭১ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হচ্ছে ২,৫ ও ১৪ নং মোট তিন জন। যুক্তি এক, মেজর রিয়াজ কামারুজ্জামান কে উর্দূ ভাষায় বলেছে (গোলাম মোস্তফা কে হত্যা করতে) সাক্ষী বলছে আমি উর্দূ বুঝি না।

দুই, কামালপুরে হত্যা, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী নং ২, মেজর রিয়াজ আহত হয় এবং পাকিস্থান চলে যান। অথচ আগষ্টের প্রথম সাপ্তাহে মেজর রিয়াজ পাকিস্থান চলে যান। তাহলে ২৩ আগষ্ট মেজর রিয়াজ সহ কামারুজ্জান কিভাবে গোলাম মোস্তফাকে হত্যা করে।

গতকাল ২৩ জুলাইয়ের পর প্রায় এক মাস দশ দিন পর আজ কামারুজ্জামানের মামলায় আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই আদালতে কামারুজ্জামানের পক্ষে সময় আবেদন করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।

গত ১৮ মে থেকে কামরুজ্জামানের মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে আপিল বিভাগে কামরুজ্জামানের মামলার শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। এর আগে কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করতেন।

গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান।

আপিলে ২৫৬৪টি মূল ডকুমেন্ট, ১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে।

গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া বাকী দু'টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাকে খালাস দেয়া হয়।

ঢাকা, কেএ, ০৩ সেপ্টেম্বর , টাইমনিউজবিডি.কম