জলবায়ু মোকাবিলায় করণীয় প্রকল্পের বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা কয়েকটি স্বচ্ছাসেবী সংস্থা এবং এনজিও’র লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জলবায়ু মোকাবিলা খাতের দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিও আমলে নিয়েছে দুদক।

টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিএফটি) প্রকল্পের আওতায় অনুদান লোপাটের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বিসিসিটিএফ’র পক্ষ থেকে ৫৫টি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) কে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি এনজিও’র কোন অস্তিত্ব নেই।

এই ১০ এনজিও’র মধ্যে রয়েছে; রাজধানীর শান্তিনগরের সমাহার, শাহবাগের সোসাইটি ফর আরবান অ্যান্ড রুরাল হিউম্যান ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট, মোহাম্মদপুরের সূর্য শিক্ষা, মোহাম্মদপুরের আস্থা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন, নিউ ইস্কাটনের ডেভেলপমেন্ট ফর সোসাইটি, শ্যামলীর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, মিরপুরের বাসাবো জনকল্যাণ সংস্থা, বনানীর শেল্টার হাউজ, তেজগাঁওয়ের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পোভার্টি এলিভেশন ও মাদারটেকের নেবুলা হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

আর অস্তিত্বহীন এ ১০টি এনজিও’র মালিকরা রাজনৈতিক প্রভার খাটিয়ে জলবায়ুর মোকাবেলা করণীয় খাতে বরাদ্দ করা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ার বিষয়টি টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৩টি এনজিও’র নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এখানে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে প্রকল্প পেয়েছে ৯টি এনজিও। ৫৫টি এনজিওর মধ্যে মাত্র ১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিএফটি) প্রকল্পের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কার্যক্রম) মো. ফজলুল কাদেরর স্বাক্ষরিত একটি টিঠিতে টিআইবির প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ তাদের চিঠিতে বলা হয় টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনের সব অভিযোগে মিথ্যা।

তার চিঠিতে আরও বলা হয়, টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিএফটি) প্রকল্পের আওতায় অনুদান প্রাপ্ত ওই ১০টি এনজিও’র অস্বিত্ব আছে। জলবায়ু তহবিলে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ সঠিক নয়।

এব্যাপারে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখায়রুজ্জামান বলেন, সরেজমিনে অনুসন্ধান করে যা পেয়েছি, তাই টিআইবি’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এখানে কোনো ধরনের ভুল কিংবা অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ঢাকা, একে, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর