গাজীপুরের কালিয়াকৈরের অন্ধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সদস্যদের বসবাসের স্থানের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই আদেশের বলে অন্ধকল্যান সমিতির সদস্যরা সে স্থানে বসবাস করতে পারবে।
অবৈধভাবে উচ্ছেদ থেকে অন্ধকল্যাণ সমিতির সদস্যদের রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে কালিয়াকৈরের অন্ধকল্যান সমিতির সদস্যদের সম্পত্তির  লিজ কেন স্থায়ী ভাবে দেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, ভূমি সচিব, সিনিয়র সহকারী ভূমি সচিব, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কালিয়াকৈরের ইউএনও ও  সহকারী
কমিশনার (ভুমি) এবং যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ওয়ার্ল্ড ওয়াচ সোসাইটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুতফর রহমান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল  আমিন সরকার।
অ্যাডভোকেট লুতফর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছেন তারা যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় বসবাস করবে। তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না।
আদালতে রিট আবেদন করেন অন্ধকল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাজ উদ্দিন।
এ আবেদনের সঙ্গে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি দৈনিকে প্রকাশিত “অন্ধদের জমি দখল করে মদের কারখানা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশও মানছে না যমুনা গ্রুপ” প্রতিবেদনটি যুক্ত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ওরফে বাবুল।
তথ্যমতে, গাজীপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৪৫টি পরিবারকে ১৪
বিঘা জমি দিয়েছিল শফিপুর বন বিভাগ। ওই জমিতে অন্ধের টেক পল্লী গড়ে তোলেন স্থানীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। কিন্তু ২০০১ সালে বাবুল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখল করেন সেই জমি। সেখানে বাবুল গড়ে তোলেন মদের (হান্টার)
কারখানা। ওই জমি অন্ধদের ফিরিয়ে দিতে ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সে নির্দেশের কোনো তোয়াক্কাই করেননি বাবুল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র সচিব, ভূমি সচিব ও গাজীপুর জেলা প্রশাসককে দেওয়া ওই নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছিল, যমুনা গ্রুপের মালিকের নির্যাতন থেকে রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ অন্ধের টেক খাসজমিতে বন্দোবস্তের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই বছর ২৫ অক্টোবর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালের ২ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে গাজীপুর জেলা প্রশাসককে অন্ধদের ওই জমি সেখানকার অন্ধ কল্যাণ সমিতির অনুকূলে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর ২০০৩ সালের ২ নভেম্বর গাজীপুর জেলা প্রশাসককে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অন্ধদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।কিন্তু এখনো কোনো ধরণের নিষেধাজ্ঞা না মেনেই মদের কারখানা তৈরি করে যাচ্ছে যমুনা গ্রুপের মালিক।[b]
ঢাকা, জিই মার্চ ৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)[/b]