ডান হাতটি অস্বাভাবিক চিকন, নাড়াতেই কষ্ট হয়। কিছু ধরতে বা কাজ করতে পারেন না ডান হাত দিয়ে। এমনকি ডান হাতে খেতেও পারেন না। এটি তার জন্মগত সমস্যা। বাম হাত  তুলনামূলকভাবে লম্বা এবং বাঁকানো। খুব কষ্ট করে বাম হাত দিয়ে খেতে হয়।

ছবির এই মানুষটির ডান হাত অচল, বাম হাতও প্রায় অচল। তিনি সুনামগঞ্জের অধিবাসী, নাম তারা মিয়া।

তারা মিয়া চাপাতি, হকিস্টিক ও লোহার রড় হাতে নিয়ে আক্রমণ করেছেন পুলিশের ওপর। ভিক্ষা করে জীবনযাপন করা তারা মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ এমন অভিযোগ এনে মামলা করেছে, খবর দ্য ডেইলি স্টার।  

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে বিকাল ৪টার পর মল্লিকপুর বাজারে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ৫২ জনকে আসামী করে মামলা করেছে পুলিশ। তারা মিয়া সেই ৫২ জনের একজন।

ঘটনার দুদিন পর জামালগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় তারা মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়। ঢাকায় হাইকোর্ট চত্বরে সংবাদদাতাকে তিনি বলেন, “আমার হাতের যখন এই অবস্থা তখন আমি কীভাবে পুলিশকে আক্রমণ করতে পারি? একদিকে ডান হাত ব্যবহার করতে পারি না, অন্যদিকে, বাম হাতটাও তেমন কাজ করে না।”

উচ্চ আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আশায় আসা ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আরও বলেন, “আমি রাজনীতি করি না। আমি ভিক্ষা করে জীবন চালাই।…আমার পরিবারের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

জামালগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, মামলাটিতে অভিযুক্ত হিসেবে ৫২ জনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাত রয়েছেন আরও ৭০ থেকে ৮০ জন।

মামলার বিবরণীতে রয়েছে, সেদিন (২৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে মল্লিকপুর বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে ‘ধানের শীষের’পক্ষে মিছিল বের করে। তারা রাস্তা আটকায় এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এতে অভিযোগকারীসহ ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এই বিষয়ে তারা মিয় জানান, “আমি কখনো কোনো মিছিলে অংশ নেই নাই। আর পুলিশকে আক্রমণ করা তো দূরের কথা।”

এরপর তাকে দেখা যায়, উদ্বেগের সাথে আদালত চত্বরে এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটি করতে।  

এমবি