রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে দুই সন্তান অরণী ও আলভী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন।
রোববার ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন জেসমিন। ঢাকার মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবীর খাস কামরায় জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে জবানবন্দিতে আসামি কি বলেছে তা জানা যায়নি।
দ্বিতীয় দফায় ৫ দিন রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক লুকমান হেকিম।
আদালতে এক প্রতিবেদন দাখিল করে তিনি বলেন, আসামি রিমান্ডে থাকাবস্থায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চান। অতএব আসামির জবানবন্দি গ্রহন করা হোক।
গত ৯ মার্চ জেসমিনকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ওইদিন আদালতে জেসমিন র্যাবের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। অন্য কারো সঙ্গে ‘খারাপ সম্পর্ক’রয়েছে কিনা তা স্বীকার করাতে র্যাব চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে মাহফুজা আদালতে বিচারককে জানান। বিচারকের প্রশ্নোত্তরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দুই সন্তানের জন্য আমার কষ্ট হয়।’
এর আগে গত ৪ মার্চ প্রথম দফায় জেসমিনকে ৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে রামপুরা থানা পুলিশ। পরে মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশকে দেয়া হয়।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বনশ্রী বি ব্লকর ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসায় সন্ধ্যায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ আমান ও গৃহিণী মাহফুজা মালেক জেসমিন দম্পতির দুই সন্তান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত আমান অরণী ও হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী আলভী আমান মারা যায়।
রাজধানীর রাজধানীর বনশ্রীর ‘কেন্ট’রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে তারা মারা যায় বলে প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। লাশ ঢাকা মেডিকেলে রেখে বাবা-মা জামালপুর শহরের ইকবালপুরে তাদের নানাবাড়িতে চলে যান।
তবে ময়নাতদন্ত শেষে ১ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, শ্বাসরোধে শিশু দুটিকে হত্যার আলামত মিলেছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অরণীর চোখে রক্ত জমাট ও গলায় আঘাত এবং আলভীর পা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ময়না তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অরণী-আলভীকে দাফন শেষে পরেরদিন ০২ মার্চ জামালপুরে দুই শিশুর বাবা আমান উল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক জেসমিন ও খালা আফরোজা মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব-৩। পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব জানায়, মা জেসমিনই সন্তানদের হত্যা করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এটি স্বীকার করেছেন।
ওএফ





