আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহিল বারী ও তার স্ত্রী (এমডি) আফরোজা বারীর বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে এসেছে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানী টিম সুনিদিষ্ট সুপারিশ মালাসহ প্রতিবেদন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিচ্ছেন বলে জানা যায় ।

সূত্র মতে, দুদকের অনুসন্ধানী টিম ইতোমধ্যে আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের সহায়তার অভিযোগে ৭ ব্যাংকসহ ১২ প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে নোটিশ পাঠিয়ে দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

তবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯ টায় 'ফারইস্ট ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি.এর এমডি শান্তা সাহা, আইডিএলসি ফাইনান্স লি.এর কর্ণধার মুশতাক আহমেদ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি'.এর ভিপি মো. কামাল পাশাকে দুদকে তলব করা হয়েছে।

আগামী ১৮ ফব্রুয়ারি সাকাল সাড়ে ৯ টায়, 'প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্স লি.এর ডিএমডি মাসকুর আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইনান্স কোম্পানি লি'.এর এমডি ইনামুর রহমানকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আর এ ৫ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই ১২ প্রতিষ্ঠানের ঋণ লেন দেন সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্তদের নাম ঠিকানাসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সম্পন্ন করা হচ্ছে।

জানা যায়, আলোচিত ৭ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে; ইসলামী ব্যাংক লি.(কারওয়ান বাজার শাখা), এবি ব্যাংক লি.(কারওয়ানবাজার শাখা), মার্কেন্টাইল ব্যাংক লি. (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট শাখা), ওয়ান ব্যাংক লি. (মতিঝিল শাখা), জনতা ব্যাংক লি.(লোকাল অফিস), এনসিসি ব্যাংক লি. এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লি. (প্রধান শাখা)।

আর ৫ লিজিং প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইনান্স কোম্পানি লি., ফারইস্ট ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি., আইডিএলসি ফাইনান্স লি., ন্যাশনাল হাউজিং ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্স লি.।

অভিযোগ রয়েছে, আনন্দ শিপইয়ার্ডের মালিকের জাহাজ নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ৭টি ব্যাংক এবং ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এ সব জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে দুদক এই বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে।

জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানী টিম আলোচিত ওই ১২ প্রতিষ্ঠনের কাছে তথ্য উপাত্ত চেয়ে ৩ দফা চিঠি পায়। প্রথম গত বছর ২৪ এপ্রিল, দ্বিতীয় ১৯ মে এবং তৃতীয় দফা ২৪ আগস্ট চিঠি পাঠানো হয়।
তবে গত ২৪ আগস্ট চিঠিতে দুদক কর্মকর্তা মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর পাঠানো চিঠিতে; আনন্দ শিপইয়ার্ডের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত চেয়ে জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং এনসিসিবিএল ব্যাংকের এমডিকে তথ্য দিতে বলা হয়।

অন্যথায় ২০০৪ এর ১৯(৩) এর ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বরে সংশোধনীর ক্ষমতার এবং তথ্য না দিলে সরসরি মামলা দায়ের করা হবে এবং সাজার বিষয়টি উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে। পরে বাধ্য হয়ে জনতা ব্যাংক,এবি ব্যাংক এবং এনসিসিবিএল ব্যাংক তথ্য উপাত্ত দেয় দুদকে।

আরো জানা যায়, আনন্দ শিপইয়ার্ডের পক্ষ থেকে দুদকের চলমান অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপর প্রভাব বিস্তারের অনেক চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু তাদের ওই চেষ্টা সফল হয়নি। কারণ এ বিষয়টি টেরপেয়ে কমিশন দুদকের অনুসন্ধানী টিমকে আরো শক্তিশালী করেছেন। একই মিডিয়ার সাংবাদিকরাও সতর্ক হয়ে যান।
একে