পদ্মাসেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণাদি না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান।
বুধবার বিকালে কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কমিশনার মো.সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার ড.মো.নাসির উদ্দিন আহমেদ, তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবদীন শিবলী, উপ পরিচালক মীর্জা জাহিদুল আলম।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের উপর ভরসা করে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে বিশ্বব্যাংকের আশ্বাসে আরও কিছ তথ্য উপাত্ত পাবার আশায় ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে দুদক মামলা দায়ে করে। কিন্তু দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগের প্রমাণাদি না পাওয়ায় ওই মামলার ৭ আসামিই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থানায় কানাডার প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনকে পদ্মাসেতুর পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দিতে ‘ঘুষ লেনদেন ষড়যন্ত্রের’অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার ৭ আসামি সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রসিডেন্ট রমেশ শাহ,
পদ্মা সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের ও এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তফাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।
মামলায় সন্দেহভাজন আসামি ছিলেন, মহাজোট সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন এ মামলার মেরিট না থাকায়, তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য, সাক্ষী না পাওয়ায় ফাইনাল রিপোর্টের মাধ্যমে মামলাটি নথিভুক্ত করা হচ্ছে। প্রায় ২ বছর তদন্তের পর মামলাটিকে এগিয়ে নেয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি মর্মে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,কানাডা থেকে রমেশ শাহের কথিত ডায়েরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। কানাডিয়ান রয়েল মাউন্টেড পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ শাহ-এর ডায়েরি থেকে উদ্ধার করেছিল ওই ঘুষের তালিকা। সেই তালিকায় লেখা আছে, কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে এদের কিছু অর্থ দিতে হবে। কাকে কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, ওই তালিকায় তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই তালিকায় সেই সময়ের মন্ত্রী, সচিব ও বেসরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের নাম লেখা রয়েছে বলে যে অভিযোগ ছিল তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর কানাডা থেকে ওই ডায়রী এবং তথ্য উপাত্ত উদ্ধারের জন্য দুদক তদন্ত কর্মকর্তা মীর্জা জাহিদুল আলম এবং বর্তমান আইন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হককে কানাডায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়নি।
ঢাকা, একে, ৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





