যাদের ভুলের কারণে বিনা অপরাধে ৩ বছর জেল খেটেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের বিচার চেয়েছেন রোববার রাতে মুক্তি পাওয়া জাহালম। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণও দাবি করেন জাহালম।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জাহালম গণমাধ্যমকে বলেন, আমি বার বার বলেছি যে এই দুর্নীতি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এটা আমার ছবি না। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনেনি। যাদের কারণে আমি ৩ বছর জেল খেটেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বিচার দাবি করছি। আর বিনা অপরাধে এতটা দিন আমার জেলে থাকতে হয়েছে। সরকারের কাছে এটার ক্ষতিপূরণও দাবি করছি।

একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দোষীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন জাহালমের পরিবারের সদস্যরাও।

উল্লেখ্য, রোববার রাত ১২ টা ৫৮ মিনিটে জাহালাম কারাগার থেকে মুক্তি পায়।

এর আগে রোববারই সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত বলেন, ‘কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে এক মিনিটও কারাগারে রাখার পক্ষে আমরা নই। এ ভুল তদন্তে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কী না, তা চিহ্নিত করে আদালতকে জানাতে হবে। না হলে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। এরকম ভুলের দায় দুদক কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

এ নিয়ে ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।