স্বর্ণের বার আটকের পর আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। গত ৬ মাসেও এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বহুমুখী তদবির ও চাপে থেমে গেছে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম।
জানা যায়, গত ১৩ মার্চ রামপুরা থানা পুলিশ ২৩৫টি স্বর্ণের বারসহ একটি প্রাইভেট কার আটক করে। পরে ১৬৫টি বার আত্মসাতের পর মাত্র ৭০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার দেখানো হয়। আবার উদ্ধার দেখানো ৭০টি স্বর্ণের বারের মধ্যে ১৬টিরও কোনো হদিস মেলেনি।
তবে এ ঘটনার পর সোনার বারসহ ধরা পড়ে মাহিন ও সমীর নামে ২ ব্যাক্তি। পুলিশের আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে পুলিশের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও ওয়াহেদুল ইসলাম, ড্রাইভার সজিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গত ৭ এপ্রিল রাতে ডিবি’র সাব-ইন্সপেক্টর ফজলুল হক বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলাটি দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯/১১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় রুজু হয়েছে বিধায় তদন্তের জন্য দুদকে স্থানান্তর হয়। আরএ মামলায় প্রথমে পুলিশের ৩ সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সোনার বার আত্মসাতের ঘটনায় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িয়ে যাচ্ছেন। স্বর্ণ চোরাচালানী চক্র এবং সরকারদলীয় প্রভাবশালী একাধিক নেতার হস্তক্ষেপ রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে, এমন আশংকায়দুদকের তদন্ত থামিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে।
দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় এ মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম বেরিয়ে আসে। কয়েক দফায় দুদক তদন্তকারী কর্মকর্তা বেশ কয়জন পুলিশ কর্মকর্তাদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
গত ১৬ জুন রমনা জোনের পুলিশ কর্মকর্তা (পুলিশের এসি) শিবলী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রামপুরার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্দু বালা, ওসি (তদন্ত) নাসিম আহমেদ, এসআই কামরুজ্জামানকে। গত ৭ মে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ডিবির ৯ কর্মকর্তাকে।
গ্রেফতারকৃত আসামিসহ অন্তত ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় ডিবির ১৯ কর্মকর্তার। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে পুলিশের উচ্চ এবং মধ্যম পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসে। আরও বেশ কয়জনকে জিজ্ঞসাবাদের সিদ্ধান্ত ছিল তার।কিন্তু রহস্যজনক কারণে থেমে যায় দুদকের তদন্তের কার্যক্রম।
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলো কারা দেশে এনেছিলো, কোথা থেকে এবং কার কাছে যাচ্ছিলো, কে কে জড়িত তাও জানতে পারেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা। এ তথ্যর পাবার পর গত জুলাই মাসে দুদক কর্মকর্তা সোনার বারসহ গ্রেফতারকৃত এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী ও ওয়াহেদুল ইসলাম, ড্রাইভার সজিবের গ্রামের বাড়ি টঙ্গি, কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জ এবং বগুড়া সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরে তদন্ত কার্যক্রম হঠাৎ থেমে যায়।
এদিকে এ মামলার তদন্তের ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তার উপর আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইসব অভিযোগ ও মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আর চাপ এবং তদবির থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এসব কিছুর তোয়াক্কা করবে না তিনি।
এছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর এমপি এনামুল হকের পক্ষ থেকে হাওয়া করে দেয়ার হুমকি এসেছে তার উপর। ওই হুমকির বিষয়ে রমনা থানায় তিনি করেছেন। জিডিনং-৭৭৭। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়নি।
ঢাকা, একে, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





