হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে বলেন, তুমি বল কী হয়েছে। তখন সাব্বির বলেন, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি এমপি সাহেবের বিষয়ে ফেসবুকে কিছু লিখিনি।’

টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাংসদ অনুপম শাহজাহানকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাব্বির শিকদার আদালতকে আরো বলেন, ১৬ তারিখ রাত ৯টায় আমাকে পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে যায়।

সেখানে ওসি সাহেব বলেন কী লিখছিস বল। আমি বলি, আমি কিছু লিখিনি। তিনি আমাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার কথা বলেন। পরে আমি ভয়ে স্বীকার করি লিখছি। এছাড়া আমাকে ইউএনও সাহেবের কাছেও নেওয়া হয়। তিনি আমাকে লাথি মারেন।

তারপর এ বিষয়ে আমাকে এমপি সাহেবের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আমাকে ২টা বারি (মার) দিয়েছেন। পরে থানা পুলিশ বলে তোরে দুই বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। কথা শেষ করতে না করতেই কেঁদে ফেলেন সাব্বির শিকদার।

এ সময় কাঁদতে কাঁদতে সাব্বির বিচারপতিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘স্যার আমি আপনাদের কাছে বিচার চাই, সরকারের কাছেও বিচার চাই।’

কারাদণ্ড পাওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনার পর হাইকোর্ট বেঞ্চ তার বক্তব্য এফিডেফিট আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে বলেন।

এছাড়া হাইকোর্টের তলবে হাজির হয়ে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাক (ওসি) ব্যাখ্যা দেওয়ার পর আদালত এই বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ আদেশের এই দিন ধার্য করেন।

আদালতে ওসি’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন আর ইউএনও এর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি আদালতে বলেন, ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাংসদ অনুপম শাহজাহানকে নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই শিক্ষার্থীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে জিডি হলে তদন্ত হবে। তদন্ত ছাড়া এভাবে কাউকে দণ্ড দেওয়া যায় না।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের এই বক্তব্য উপস্থাপনের পর হাইকোর্ট কারাদণ্ড পাওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে জামিন দেন। এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির হতে বলেন। সেই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে দুই বছর সাজা দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে তলব করা হয়।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর রুলসহ এই আদেশ দেন।

এসএম