দেশের বাজারে প্রচলিত ১৪টি ব্যান্ডের দুধ পরীক্ষা করে তার ১১টিতেই অতিরিক্ত মাত্রায় সিসার উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে বিষাক্ত ক্যাডমিয়ামও সনাক্ত হয়েছে জানিয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪টি কোম্পানির দুধ পরীক্ষা করে তার ১১টিতেই অতিরিক্ত মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে। সীসার উপস্থিতি রয়েছে এসব ব্র্যান্ডগুলো হলো- মিল্ক ভিটা, প্রাণ মিল্ক, আড়ং, ডেইরী ফ্রেশ, ঈগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আয়রণ, পিউরা ও সেফ।

এছাড়া ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধে বিষাক্ত ক্যাডমিয়াম ধাতু পাবার কথাও বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। এসময় বিএসটিআই’র পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান ( মামুন)। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

এছাড়া গোখাদ্যের ১২টি নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআরবি, বিসিএসআইআরসহ ৪টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, এমন একটি রিপোর্ট দাখিল করে সংস্থাটি। যদিও বিএসটিআই ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ করে মাত্র দুটি ব্র্যান্ডের দুধে ক্ষতিকার উপাদান পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানি শেষে দুগ্ধ খামারীদের পশু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গাভীকে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী ক্ষতিকারক উপাদান থাকা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে পুষ্টির অন্যতম প্রধান জোগান হিসেবে বিবেচিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যে এবার মিলেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান। ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পায়।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।  

এমবি