রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে হাইকোর্টে। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা করা বা দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
এ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের অন্য কয়েকটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে রোববার এ রিট করেছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সংস্থাটির পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিটে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩৫, ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করা হবে না- সে মর্মে রুল জারিরও আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসটেটিভ অ্যান্ড ড্রাফটিং বিভাগের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতাসংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার সংক্রান্ত সংবিধানের অপরাপর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
আবেদনে বলা হয় আইনের চোখে সবাই সমান। প্রত্যেকেরই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন অপরাধী সব দোষ প্রমানিত হয়ে আদালতে শাস্তি পাবার পর যখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে যান তখন মানুষের ন্যায় বিচার পাবার অধিকার ক্ষুন্ন হয়।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দেয়া তথ্যমতে বিগত ৪০ বছরে রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতাবলে মোট ২৫ জনের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করেছেন। এরমধ্যে ২১ জনই মাফ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে।
মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ২১ জনের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাই মূল বিষয় ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদে যাদের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই কোন না কোন ভাবে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের দেয়া তথ্যমতে, ২০১০ সালে এক বছর সময়কালের মধ্যেই ক্ষমা করা হয়েছে ১৮ জনকে। সেখানে রয়েছে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এমনসব আসামী যা দেশের মানুষকে বিস্মিত করেছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে দন্ড মওকুফ পেয়েছেন এমন একজনের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলার আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহেরের ছেলে এইচ এম বিপ্লব রয়েছেন। সেখানকার বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় তার ফাঁসি হয়েছিল।
আগের আট বছরে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাওয়ার সবগুলোই ঘটেছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরে। ওই সময়কালে চারজনকে ক্ষমা করেন রাষ্ট্রপতি, যার মধ্যে তিনজনই আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ড দন্ডিত ছিলেন।
চারদলীয় জোট সরকার আমলে ক্ষমা পাওয়া ঝিন্টু ছিলেন সুইডেন বিএনপির নেতা। সূত্রাপুরের দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে এরশাদ আমলে সামরিক আদালতে তিনিসহ চারজনের মৃত্যুদন্ড হয়েছিল।
এর মধ্যে আবুল হাসনাত কামাল নামে একজনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হলেও বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঝিন্টু ২০০৫ সালে দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পান।
মহাজোট সরকার আমলে নাটোরের সাব্বির আহমদ গামা হত্যামামলায় মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত ২০ জনকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করে দেয়াও বেশ আলোচনা তুলেছিল।
চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নাটোর নলডাঙ্গা রামশার কাজিপুর বাজারে খুন হন ওই সময়ের উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ভাতিজা গামা।
এর আগে, বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৬ সালে প্রথম একজন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ক্ষমা করা হয়। ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ও ক্ষমা করা হয়েছিল দু’জনকে। এছাড়া বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও একজন ক্ষমা পেয়েছেন।
এভাবেই কুখ্যাত খুনিদের একের পর এক দন্ড মওকুফের এমনই পটভূমিতে রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলো হাইকোর্টে। আদালত এ রীটে কী রায় দেয় সেদিকেই এখন সবার নজর।[b]
ঢাকা, ১ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ//কেবি[/b]
অপরাধ
রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে হাইকোর্টে। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা করা বা দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। এ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের অন্য কয়েকটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে রোববার এ রিট করেছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।





