কেরানীগঞ্জে ৪ খুনের ঘটনার মূল হোতা নাসিরকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের একটি দল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানাধীন উধুনিয়া ইউনিয়নের পংখারুয়া গ্রাম থেকে নাসিরকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি হত্যাকাণ্ডের সময় নাসির ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লাপাড়া থানার ওসি তাজুল হুদা জানান, কেরানীগঞ্জ পুলিশের একটি দল গত রাতে (সোমবার) এসেছিল। চার খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে তারা গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।”
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ঢাকা জেলা পুলিশের এএসপি কাজী মাসকুরা লিমা। তিনি জানান, “হত্যাকাণ্ডের সময় পাঁচজন ঘটনাস্থলে ছিল। সে সময় নাসিরও সেখানে ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমপুর এলাকার ছয়তলা একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় একই পরিবারের চারজনের হাত-পা চোখ বাঁধা লাশ পাওয়া যায়।
ওই বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সোহেল এবং বাসা ভাড়া নিতে সহযোগিতা করা আক্কাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ওই বাসায় পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও কয়েকশ ভিজিটিং কার্ডের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে এক দিন পর নিহতদের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- সাজু আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম (২৬), তাদের ছেলে ইমরান (৫) ও মেয়ে সানজিদা (৩)। তাদের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের গাজকাটি গ্রামে।
এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন গেরানি বেগম, মুক্তা বেগম, শাহিদা বেগম, রফিক, আবদুল মজিদ, সুমন ও জনি।
পরে এক ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। নিহত সাজুও সেই দলে ছিলেন। নবাবগঞ্জে একটি বাসায় তারা একইসঙ্গে ডাকাতি করেছিলেন।
মূলত লুট করা সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।” এছাড়া রফিকের স্ত্রীর ও জনির স্ত্রীর সঙ্গে সাজুর ‘অবৈধ সম্পর্ক’ ছিল। সেকারণে হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার সেদিন জানান, রফিক ও সুমন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। তাদের পালিয়ে থাকতে সহায়তা করে গ্রেপ্তার তিন নারী। তারা পুলিশের গতিবিধির ওপরও নজর রাখছিল।
এব্যাপারে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোনালিসা বেগম সেদিন জানান, নিহত সাজু এক সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালাতেন। পরে ট্রাকের হেলপারের কাজ করেন কিছুদিন। তিন বছর আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে ট্রাক চালাতে শুরু করেন। ওই লাইসেন্সও তার বাসায় পাওয়া যায়।
“এক সময় বেশি টাকার লোভে মাদক বিক্রি এবং ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হিসাবে সে কাজ শুরু করে। মূলত এটাই তার জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে জনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জেইউ/এসএইচ





