তারেক জিয়ার শাশুড়ির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি নন-সাবমিশন মামলা করে   মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো একটি হীন কার্যে উলঙ্গভাবে নেমেছে বলে দাবি করেন বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।
রোববার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমতির ভবনের সংবিধান,আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টারস ফোরামের কক্ষে  এক সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।
দুদকের মামলায়  সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়াল এডমিরাল (প্রয়াত) মাহবুব আলী খানের স্ত্রী ৭০ উর্ধ্ব একজন নাগরিক। তার সম্পত্তি বিবরণীর সময় প্রার্থনা করলে দুদক তা মঞ্জুর না করে মামলা চালিয়ে যাচ্ছে যা নাগরিকের মানবাধিকারের উপর কষাঘাতের শামিল।
তিনি আরো বলেন,সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু যত সম্পদ রয়েছে তার কোনো কিছুই নিজে অর্জন করেননি বরং সকল সম্পত্তি উত্তোরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। ধানমন্ডি ৫নং সড়কে অবস্থিত ৪০ ও ৪২ নং ফ্লাট সমন্বয়ে বসত বাড়িটি তার প্রয়াত শ্বশুর ব্যারিষ্টার আহমেদ আলী খান থেকে পেয়েছেন।
ব্যারিষ্টার নাসির বলেন,সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু নিজের উপার্জন থেকে গরীব,মেধাবী এবং এতিম শিশুদের শিক্ষার কল্যাণে তার সম্পদ ব্যয় করে চলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য ধানমন্ডির আবাসিক এলাকার ৫নং সড়কে অবস্থিত ‘সুরভী’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত অন্ততঃ ২৫ লক্ষ ছিন্নমূল শিশুকে শিক্ষার আলোকে আলোকিত করা হয়েছে। তিনি তার সেবা মূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক ও অন্যান্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি একজন লেখিকা,গীতিকার,পিয়ানো বাদক এবং একজন চিত্রাঙ্কন শিল্পী।
লিখিত বক্তব্যে অসীম আরো বলেন,মানুষের মানবাধিকারের প্রতি যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করাই হউক সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মূখ্য উদ্দেশ্য। অযথা হয়রানি কিংবা সম্মান হানির হাত থেকে নিরীহ নাগরিকরা যেন রেহাই পায় সেটাই আমরা কামনা করি।
২০০৭ সালের ২৯ মে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে চার কোটি ২৩ লাখ আট হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ সর্বমোট ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক রহমান,তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও তার শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারাসহ জরুরি ক্ষমতায় মামলা দায়ের করে দুদক।
সূত্র আরো জানায়,ওই চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে জোবাইদা রহমানের নামে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। তারেক রহমানের দাবি অনুসারে ওই এফডিআরের অর্থ তার শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু তার মেয়ে জুবাইদা রহমানকে দান করেছেন। দুদকের তদন্তে ওই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বরং জুবাইদা রহমান ও ইকবাল মান্দ বানু এর মাধ্যমে তারেক রহমানের অবৈধ আয়কে বৈধ করার অপচেষ্টায় সহায়তা করেছে মর্মে প্রমাণিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ আদালতে মামলাটির চার্জশিট (চার্জশিট নং-৭৮) দাখিল করা হয়।
সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ১৯৭৯ সালে ‘সুরভী’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সারাদেশে এর শাখা ছড়িয়ে আছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ্য অবস্থায় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন আছেন।
[b]ঢাকা, জিই, ফেব্রুয়ারি ২ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]