হঠাৎ করে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে হামলার ঘটনায় ৭ জন মারাত্নক দগ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘ তিন মাস পর এই ঘটনা সাধারণ জনগণের মধ্যে যতটা কৌতুহল সৃষ্টি করেছে তার থেকে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে গোটা প্রশাসনকে।
তাইতো এই হামলাকারীদের ধরতে ইতোমধ্যে পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করেছে।
এই যৌথ অভিযান সম্পর্কে র্যাব সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারি পরিচালক মাকসুদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে টাইমনিউজবিডিকে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ঘটনার পর থেকেই নাশকতাকারীদের ধরতে একটি অভিযান শুরু হয়েছে।
টাইমনিউজবিডিকে তিনি আরো বলেন, এটা যৌথ অভিযান কিনা সেটা বলতে পারবো না তবে প্রশাসনের সবাই নাশকতাকারীদেরকে ধরতে ঘটনার পর থেকেই আলাদা আলাদাভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা সদর এলাকার সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমতিয়াজ মাহবুবের সাথে কথা বললে টাইমনিউজবিডিকে তিনি বলেন, হঠাৎ কি কারণে পেট্রোল বোমার ঘটনা ঘটলো প্রাথমিকভাবে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। তবে আজ (বুধবার) সকাল থেকেই অপরাধীদের ধরতে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
টাইমনিউজবিডিকে এএসপি মাহবুব আরো বলেন, এ পর্যন্ত ওই ঘটনায় আমরা কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি তবে আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের ধরতে পারবো।
এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত থাকতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে টাইমনিউজবিডিকে এএসপি মাহবুব বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কাউকে সন্দেহ করছিনা। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই আমরা আপনাদেরকে জানাতে পারবো।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অগ্নিদগ্ধে গুরুতর আহতদের ১৫ হাজার টাকা এবং বাকিদের ১০ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটিগামী ইউনিক পরিবহণের যাত্রীবাহী বাসটি (ঢাকা-মেট্রো-ব ১৪-৭৬৪৮) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পাট গবেষণা কেন্দ্রের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা গাড়িটি লক্ষ করে পেট্রোলবোমা ছুড়লে অন্তত সাতজন দগ্ধ হয়।
দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আহত দু'জন হলেন, চন্দ্র চাকমা (৪৮) ও রঞ্জিত চন্দ্র চাকমা (৪৫)।
ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, তাদের শরীরে একজনের ২৬ শতাংশ এবং অন্যজনের ৪৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। অর্থাৎ তাঁদের শরীরের মোট ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তারা আশঙ্কামুক্ত নন। তাঁদের দু'জনের বাড়িই রাঙামাটি জেলাতে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রাঙামাটি সদরের বড়ধোনা এলাকার যুক্তমনি চাকমার ছেলে খোকন চাকমা (৩৩), রাঙামাটি সদরের সুনীল চন্দ্র নাথের ছেলে সুমন চন্দ্রনাথ (৩০), গোপালগঞ্জ সদরের এমরান (২৫) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার আবুল হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম ফারুক (২৫) ও তার স্ত্রী লাভলী আক্তার।
এ ঘটনায় কোন মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (ওসি) রসূল আহমেদ নিজামি টাইমনিউজবিডিকে জানান, এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযান অব্যহত আছে এবং তদন্ত চলছে। অভিযান এবং তদন্ত শেষ হলেই সব কিছু জানাতে পারবো।
এমআর/এসএইচ





